ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে জার্মানির নাৎসি শাসনের সঙ্গে তুলনা করা কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয় বলে রায় দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।
জার্মান আইনি ওয়েবসাইট 'বেক অনলাইন' এর বরাত দিয়ে তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই খবর জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলায় এক ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী তার কয়েকটি পোস্টে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নাৎসি বাহিনীর নির্মম কর্মকাণ্ডের তুলনা করেছিলেন। ওই পোস্টগুলোতে তিনি নাৎসিদের স্বস্তিকা চিহ্ন এবং নাৎসি পার্টির দলীয় পতাকা ব্যবহার করেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জার্মানির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সোয়াইব্রুকেনের একটি উচ্চ আঞ্চলিক আদালত বাকস্বাধীনতার অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে ওই নারীকে সব ধরনের অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংবিধানবিরোধী কোনো সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের যে অপরাধমূলক বিধান রয়েছে, তা এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ, যখন কেউ ইসরায়েল রাষ্ট্রের আগ্রাসী পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করতে এসব প্রতীক ব্যবহার করে এবং একই সঙ্গে নাৎসি আমলের অন্যায়-অবিচার থেকে নিজেকে স্পষ্টভাবে দূরে রাখে কিংবা তার তীব্র নিন্দা জানায়, তখন তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে না।
ওই ব্যবহারকারী তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি টেবিল পোস্ট করেছিলেন, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নিয়ে নাৎসি শাসকগোষ্ঠী ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। এর ওপরে ছিল একটি ছবি— যার একপাশে ছিল ইসরায়েলের পতাকা এবং অন্যপাশে আংশিক দৃশ্যমান স্বস্তিকা চিহ্নসহ নাৎসি পার্টির পতাকা।
তার অপর একটি পোস্টে একটি দেয়াল দেখা যায়, যেখানে 'স্টার অব ডেভিড' (ইহুদিদের ধর্মীয় প্রতীক)-এর মাঝখানে নাৎসি স্বস্তিকা চিহ্ন আঁকা ছিল। ওই দেয়ালে দাঁড়িয়ে থাকা সেনাসদস্যরা ঘেরাও করা এলাকার দিকে গুলিবর্ষণ করছে এবং দেয়ালের নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। পোস্টের সঙ্গে তিনি হ্যাশট্যাগ হিসেবে
এর আগে, জার্মানির লুডভিগশাফেন শহরের একটি নিম্ন আদালত সংবিধানবিরোধী সংগঠনের প্রতীক ব্যবহারের দায়ে ওই নারীকে ২,৪০০ ইউরো (প্রায় ২,৭৬৮ মার্কিন ডলার) জরিমানা করেছিলেন। তবে সোয়াইব্রুকেনের উচ্চ আদালত আপিলের শুনানিতে নিম্ন আদালতের সেই রায় বাতিল করেন।
একই সঙ্গে আদালত বাকস্বাধীনতার আলোকেই ফৌজদারি আইন বা অপরাধকে ব্যাখ্যা করার ওপর জোর দেন এবং এর পরিধিকে অতিমাত্রায় কঠোরভাবে ব্যাখ্যা করার বিষয়ে সতর্ক করেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ