গাজায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য চুক্তি হয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হামাস সত্যিই অস্ত্র ছেড়ে দেবে কি না, তা নিয়ে ইসরায়েল এখনো সন্দিহান।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কায়রোতে মধ্যস্থতাকারী ও হামাস নেতাদের মধ্যে আলোচনার পর ট্রাম্প জানান, তার নেতৃত্বাধীন “বোর্ড অব পিস” গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একটি “ঐতিহাসিক চুক্তিতে” পৌঁছেছে।
ট্রাম্প বলেন, এই প্রক্রিয়া একবারে নয়, ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। তার মতে, এটি গাজায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি আরও জানান, চুক্তির আওতায় গাজায় নতুন একটি ফিলিস্তিনি প্রশাসন গঠনের পথ তৈরি হবে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। গাজা ভবিষ্যতে আর কোনো হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হবে না।
তবে হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। হামাসের আলোচনাকারী দলের সদস্য গাজি হামাদ জানান, ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত হামাস নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
হামাসের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারী অস্ত্রগুলো একটি ফিলিস্তিনি প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রাখা হতে পারে। তবে এসব অস্ত্র ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা হবে না।
ইসরায়েলের অবস্থান
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ইসরায়েল এখনো পুরোপুরি আশ্বস্ত নয়। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হামাস সত্যিই অস্ত্র ছেড়ে দেবে কি না— এ বিষয়ে ইসরায়েলের মধ্যে গভীর সন্দেহ রয়েছে।
এর আগে, এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া কোনো প্রক্রিয়ায় তারা রাজি নয়।
তাদের দাবি, গাজা থেকে সব অস্ত্র সরিয়ে ফেলতে হবে এবং পুরো অঞ্চলকে সামরিকীকরণমুক্ত করতে হবে।
গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনা
ট্রাম্পের “বোর্ড অব পিস” গাজা যুদ্ধের অবসান এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় রয়েছে— গাজায় মানবিক সহায়তা বাড়ানো, একটি বেসামরিক ফিলিস্তিনি প্রশাসনের মাধ্যমে শাসন পরিচালনা, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং নিরাপত্তার জন্য আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন।
গাজা বিষয়ক বোর্ডের দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেন, লক্ষ্য হলো এমন একটি গাজা তৈরি করা, যা ফিলিস্তিনিদের দ্বারা পরিচালিত হবে, ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করবে।
অস্ত্র জমা দেওয়াই বড় বাধা
তবে চুক্তি বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে হামাসের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ। আলোচনায় থাকা পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজায় হামাসের— সুড়ঙ্গ ব্যবস্থা ধ্বংস করা, অস্ত্রের মজুত সরিয়ে ফেলা, অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ করা হবে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এটি পারস্পরিক আস্থার ওপর নির্ভর করা কোনো চুক্তি নয়, বরং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের ওপর ভিত্তি করে করা একটি সমঝোতা।
গাজায় হামলা এখনো চলছে
এদিকে চুক্তির আলোচনা চললেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা গাজায় হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে।
গাজা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় ১২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামাসের হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছে।
হামাস সাধারণত নিজেদের হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে না।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ