কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ নিয়ে সিলিকন ভ্যালিসহ বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকার মধ্যেই এ খাতের তদারকিতে নতুন ‘এআই ফোর্স’ বা বিশেষ বাহিনী গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।
গত এক সপ্তাহে প্রযুক্তি খাতের একাধিক ব্যক্তি এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন এবং আরও ধীরগতিতে এটির বিকাশ বা উন্নয়নের কথা বলেছেন। তবে ট্রাম্প চান, এআইয়ের আরও দ্রুত বিকাশ হোক।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি এআই ফোর্স গঠন করছি। প্রথম মেয়াদে যেমন স্পেস ফোর্স গঠন করেছিলাম, এটিও তেমন হবে। স্পেস ফোর্স ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। এ উদ্দেশ্যে অদূর ভবিষ্যতে আমি এআই জার নিয়োগের ঘোষণা দেব। যাদের আইকিউ অনেক বেশি, শুধু তারাই আবেদন করবেন!’
তবে একই পোস্টে দ্রুত বিকাশমান এ প্রযুক্তি নিয়ে ট্রাম্প তার আগের অবস্থানও পুনরায় প্রকাশ করেছেন। প্রযুক্তি খাতের কিছু বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন, এআই মানুষের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু ট্রাম্প দাবি করছেন, এআই নিয়ে যে ভীতি ছড়ানো হচ্ছে, তা ‘ধাপ্পাবাজি’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বছরের পর বছর এ ধরনের অনেক গুজব ছড়ানো হয়েছে। এগুলো সবই উগ্র বামপন্থী ডেমোক্র্যাটদের তৈরি। এর উদ্দেশ্য আমাদের দেশকে ধ্বংস করা।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০১৬ সালের নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ, ইউক্রেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, তার বিরুদ্ধে দুটি অভিশংসনের চেষ্টা, নারীদের খেলাধুলায় পুরুষদের অংশগ্রহণের মতো বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, এ ধরনের সর্বশেষ ধাপ্পাবাজি হলো- এ প্রযুক্তি নিয়ে নানা আশঙ্কার কথা বলে এআইকে ধ্বংস বা বিলুপ্ত করার জন্য উঠেপড়ে লাগা। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার প্রশাসন কোনোভাবেই এ অসাধারণ শিল্পের বিকাশে বাধা দেবে না বা দমিয়ে রাখবে না। প্রয়োজনে যারা এআইয়ের অপব্যবহার করেন, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
ট্রাম্পের এ অবস্থান নেওয়ার একটি বড় কারণ হিসেবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এআইয়ের দ্রুত বিকাশ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন এ প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে পারে।
তবে, এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও জননিরাপত্তার ওপর এটির প্রভাব নিয়ে অনেক রিপাবলিকানও সতর্ক মত প্রকাশ করেছেন। তারা এআইয়ের বিকাশ ধীর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/মহু