বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি ও নিত্যনতুন আবিষ্কারে জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে। অনেক সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই সুবিধাগুলো থেকে লাভ বা ক্ষতি পাওয়া সম্পূর্ণরূপে মানুষের ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। কারণ অনেক আবিষ্কার এমন আছে যার মাধ্যমে মানুষ নেক কাজ সহজেই সম্পন্ন করতে পারছে যেমন অনলাইনে কুরআন-হাদিস পড়ছে, দ্বীনি বিধিবিধান শিখছে।
অন্যদিকে কিছু ডিজিটাল এমন মাধ্যমও রয়েছে, যার মাধ্যমে মানুষ সহজেই পাপে লিপ্ত হতে পারে। তার মধ্যে জুয়া অন্যতম একটি পাপের কাজ। জুয়া বিভিন্নরূপে নতুন প্রজন্মকে ভয়ানক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং এর অনুসারীদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জুয়া হলো এমন এক চুক্তি, যেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে শর্ত থাকে এবং পরাজয়ের ক্ষেত্রে নিজের সম্পদ বা টাকা হারানোর ঝুঁকি থাকে। জয়ের ক্ষেত্রে অন্যের সম্পদ বা টাকা পাওয়ার আশা থাকে। ফিকহের কিতাবে বলা হয়েছে, ‘পুরস্কার বৈধ, যদি শর্ত এক পক্ষের পক্ষ থেকে থাকে। কিন্তু উভয় পক্ষ থেকে শর্ত থাকলে তা হারাম, কারণ তখন এটি জুয়া হয়ে যায়।’
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমার কাছে মদ এবং জুয়া সম্পর্কে জিগ্যেস করা হয়, তুমি বলে দাও যে এ দুটিতে বড় গুনাহ রয়েছে এবং মানুষের জন্য কিছু দুনিয়াবি লাভও রয়েছে, কিন্তু এ দুটির গুনাহ তাদের লাভের চেয়ে অনেক বড়’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২১৯)। মদ ও জুয়ার কিছু দুনিয়াবি সুবিধা আছে। মদ পান করলে কিছুটা ভালো লাগতে পারে আর জুয়ার মাধ্যমে কিছু অর্থ উপার্জন হতে পারে। কিন্তু এর ক্ষতি হলো অনেক মারাত্মক। অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদি ও ভাগ্যনির্ধারক তীরগুলো তো নাপাক শয়তানের কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৯০)
হাদিসে শরিফেও বহু স্থানে জুয়ার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। যেমন জুয়া খেলা প্রসঙ্গে হজরত বুরাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে বলে ‘চলো, আমরা জুয়া খেলি’, তার উচিত সে যেন কাফফারা হিসেবে দান করে (বুখারি)। অর্থাৎ জুয়া খেলা তো দূরের কথা, জুয়া খেলার আমন্ত্রণ জানানোও এমন পাপ যা থেকে পরিত্রাণ পেতে দান করা উচিত।
আমাদের দেশে বিভিন্ন খেলার মাধ্যমে জুয়ার প্রচলন অনেক বেড়েছে। যেমন তাস, ক্রিকেট, ফুটবল, লুডো, ক্যারাম বোর্ড ইত্যাদি। এগুলো যেমনিভাবে সরাসরি জুয়ার মাধ্যম, তেমনি অনলাইনেও এর ব্যাপকতা বেড়েছে আজকাল। সবচেয়ে আফসোস আর পরিতাপের বিষয় হলো মানুষ এসব জুয়াকে অপরাধ মনেই করছে না। এ জন্য এর ব্যাপকতা দিন দিন বেড়েই চলছে।
সুতরাং যারা জুয়ায় আসক্ত তাদের প্রতি অনুরোধ, আসুন, আল্লাহর দরবারে আন্তরিকভাবে তওবা করি এবং সর্বদা তা থেকে বেঁচে থাকার দৃঢ় সংকল্প করি। জুয়া থেকে উপার্জিত অর্থ প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিন, যদি তাকে না পাওয়া যায়, তবে তার উত্তরাধিকারীদের কাছে দিন। যদি তাদেরও খুঁজে পাওয়া না যায়, তবে প্রাপ্ত অর্থ ও সম্পদ ফকিরদের মধ্যে বিতরণ করুন। এ ক্ষেত্রে সওয়াব পাওয়ার আশা করা যাবে না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হারাম সম্পদ থেকে বাঁচার এবং হালাল রিজিক উপার্জনের তওফিক দান করুন।
প্রাবন্ধিক, দোহা, কাতার
সময়ের আলো/আআ