ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ের ১০ উপকারিতা

সময়ের আলো ডেস্ক

ইসলাম

ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে শুধু সামাজিক বা পারিবারিক একটি বন্ধন নয়, বরং মানুষের নৈতিকতা, চারিত্রিক পবিত্রতা, মানসিক প্রশান্তি ও পারিবারিক জীবনের

2026-09-27T20:56:58+00:00
2026-09-27T20:57:28+00:00
 
  রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১২ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইসলাম
ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ের ১০ উপকারিতা
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫৬ পিএম  আপডেট: ২৭.০৯.২০২৬ ৮:৫৭ পিএম
কোরআন ও হাদিসে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ভালোবাসা, দয়া, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে শুধু সামাজিক বা পারিবারিক একটি বন্ধন নয়, বরং মানুষের নৈতিকতা, চারিত্রিক পবিত্রতা, মানসিক প্রশান্তি ও পারিবারিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কোরআন ও হাদিসে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ভালোবাসা, দয়া, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। 

বিয়ের মাধ্যমে মানুষ বৈধভাবে জীবনসঙ্গী লাভের পাশাপাশি পরিবার গঠন এবং সন্তান-সন্ততির মাধ্যমে বংশধারা অব্যাহত রাখার সুযোগ পায়। কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিয়ের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হলো—

১. দ্বীন ও চরিত্র রক্ষায় সহায়ক

বিয়ে মানুষের দ্বীন ও চরিত্র রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রচলিত একটি হাদিসের বর্ণনায় বিয়েকে মানুষের দ্বীনের অর্ধেক পূরণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত— নবী (সা)-এর সঙ্গে আমরা কতক যুবক ছিলাম; আর আমাদের কোন কিছু ছিল না। এই হালতে আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্‌ (সা) বলেন, ‘হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যারা বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিয়ে করে। কেননা বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে এবং যার বিয়ে করার সামর্থ্য নেই, সে যেন সাওম পালন করে। কেননা, সাওম তার যৌনতাকে দমন করবে।’(সহিহ বুখারি : ৪৬৯৬)।

২. নবীজির সুন্নত পালন

বিয়ে নবী-রাসুলদের জীবনাচারের অংশ। মহানবী (সা.) নিজে বিয়ে করেছেন এবং সাহাবিদেরও বিয়েতে উৎসাহ দিয়েছেন। তাই ইসলামে বিয়েকে শুধু সামাজিক প্রথা হিসেবে নয়, বরং সুন্নাহসম্মত জীবনব্যবস্থার অংশ হিসেবেও দেখা হয়।

৩. অবৈধ সম্পর্ক ও গুনাহ থেকে সুরক্ষা

মানুষের স্বাভাবিক যৌন চাহিদাকে ইসলাম অস্বীকার করেনি। বরং তা পূরণের জন্য বৈধ পথ হিসেবে বিয়ের ব্যবস্থা করেছে।


৪. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও মমতা তৈরি

কোরআনে দাম্পত্য সম্পর্ককে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘তাঁর নিদর্শনের মধ্যে হল এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তার কাছে শান্তি লাভ করতে পার আর তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। এর মাঝে অবশ্যই বহু নিদর্শন আছে সেই সম্প্রদায়ের জন্য যারা চিন্তা করে।’ (সুরা আর-রুম, আয়াত: ২১)

৫. মানসিক প্রশান্তি লাভ

বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এমন একটি সম্পর্ক তৈরি করা, যেখানে দুজন একে অপরের কাছে মানসিক শান্তি ও স্বস্তি খুঁজে পাবেন।

৬. একে অপরের সুরক্ষা ও আশ্রয়

পোশাক যেমন মানুষকে আচ্ছাদিত ও সুরক্ষিত রাখে, তেমনি স্বামী-স্ত্রীও একে অপরের দুর্বলতা গোপন রাখা, বিপদে পাশে থাকা এবং নিরাপত্তা ও সহযোগিতা দেওয়ার মাধ্যমে পরস্পরের আশ্রয় হতে পারেন। কোরআনে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বোঝাতে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের জন্য রমযানের রাতে তোমাদের বিবিগণের নিকট গমন করা জায়িয করা হয়েছে, তারা তোমাদের আচ্ছাদন আর তোমরা তাদের আচ্ছাদন।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৭)

৭. রিজিক ও কল্যাণের আশা

বিয়ের কারণে আর্থিক সংকটের আশঙ্কায় বৈধ সম্পর্ক থেকে দূরে না থাকার শিক্ষা কোরআনে পাওয়া যায়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন তাদের বিবাহ সম্পন্ন কর আর তোমাদের সৎ দাস-দাসীদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয় তাহলে আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে অভাবমুক্ত করে দেবেন, আল্লাহ প্রচুর দানকারী, সর্ববিষয়ে জ্ঞাত।’ (সুরা আন-নুর, আয়াত: ৩২)।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বিয়ের পর প্রত্যেকের আর্থিক অবস্থার নিশ্চয়ই একইভাবে পরিবর্তন হবে। বরং রিজিক ও কল্যাণ আল্লাহর হাতে, এই বিশ্বাসের কথা এখানে বলা হয়েছে।


৮. বৈধ পরিবার ও বংশধারা প্রতিষ্ঠা

বিয়ের মাধ্যমে বৈধ পরিবার গড়ে ওঠে এবং সন্তান-সন্ততির মাধ্যমে বংশধারা অব্যাহত থাকে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের স্বজাতির মধ্য হতেই তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন আর তোমাদের জন্য তোমাদের জোড়া থেকে পুত্র-পৌত্রাদি বানিয়েছেন আর তোমাদেরকে উৎকৃষ্ট রিযক দিয়েছেন। তবুও কি তারা ভিত্তিহীন বাতিল জিনিসের উপর ঈমান পোষণ করবে আর আল্লাহর অনুগ্রহকে তারা অস্বীকার করবে?’ (সুরা আন-নাহল, আয়াত: ৭২)

সন্তান শুধু বংশধারা রক্ষা করে না, সঠিক শিক্ষা ও নৈতিকতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার সুযোগও তৈরি করে।

৯. নেককার জীবনসঙ্গী কল্যাণের সহায়ক

ইসলামে নেককার জীবনসঙ্গীর গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একজন নেককার জীবনসঙ্গী পারিবারিক শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি ইবাদত, নৈতিকতা ও আল্লাহর আনুগত্যের পথে একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারেন।

আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) প্রমুখ বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘দুনিয়া (তার সবকিছু) উপভোগ্য বস্তু। আর দুনিয়ার উপভোগ্য বস্তুসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বস্তু হল পুণ্যময়ী স্ত্রী।’ (সহিহ মুসলিম : ৩৭১৬)

১০. নেককার সন্তানের দোয়া মৃত্যুর পরও উপকার করে

সন্তান যদি নেককার ও আল্লাহভীরু হয়ে বেড়ে ওঠে, তাহলে তার দোয়া বাবা-মায়ের মৃত্যুর পরও উপকারের কারণ হতে পারে। ইয়াহইয়া ইবনু আইউব ও কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন মানুষ মারা যায় তখন তিন প্রকার আমল ব্যতীত তার সকল আমল বন্ধ হয়ে যায়। সাদাকায়ে জারিয়া, অথবা এমন ইলম যার দ্বারা উপকার সাধিত হয়, অথবা নেককার সন্তান যে তার জন্য দু’আ করতে থাকে।’ (সহিহ মুসলিম : ৪০৭৭)।

তাই ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে শুধু একজন জীবনসঙ্গী পাওয়ার বিষয় নয়। এটি পারিবারিক শান্তি, নৈতিক জীবন, বৈধ পরিবার গঠন, সন্তানদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।


সময়ের আলো/এমকে
  বিষয়:   ইসলাম  দৃষ্টি  বিয়ে  উপকারিতা 


Advertisement
Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: