বাংলাদেশি ফুটবল ভক্তরা আফসোস করবে নাকি খুশি হবে? কারণ ফুটবলের এক প্রতিভাবান তরুণ যে কি না ইচ্ছা করলে বাংলাদেশের লাল-সবুজের জার্সি গায়ে তুলতে পারত। কিন্তু তাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের জন্য ভাবনায় রেখেছে। তিনি আর কেউ না কাভান সুলিভান।
এই তো গত এপ্রিলে সাফ অনূর্ধ্ব-২০-এর শিরোপা জেতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তারই ভাই ডেক্লান সুলিভান ও রোনান সুলিভান।
সম্প্রতি ফিফার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের সম্ভাবনাময় কয়েকজন তরুণ ফুটবলারের তালিকায় রাখা হয়েছে কাভান সুলিভানকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে জাতীয় দলকে নতুনভাবে সাজানোর পরিকল্পনা করছেন। সেই পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তরুণ ফুটবলার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন কাভান।
যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বেড়ে উঠা কাভান, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রকে। এখন মাত্র ১৬ বছর বয়সেই দেশটির সিনিয়র জাতীয় দলে অভিষেকের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার। কাভানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক পারিবারিক সূত্রে। তার মা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। সে কারণেই কাভান ও তার দুই বড় ভাই রোনান সুলিভান এবং ডেক্লান সুলিভান বাংলাদেশের হয়ে খেলার সুযোগ ছিল।
দুই ভাই ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তারা অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে খেলেছেন এবং বাংলাদেশের ফুটবলের পরিচিত মুখ। কিন্তু কাভান ছোটবেলা থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলতে খেলতেই নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলেছেন।
ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার ২০২৫ ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে সবার নজর কাড়েন। টুর্নামেন্টজুড়ে তার বল নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, আক্রমণ তৈরির দক্ষতা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার সামর্থ্য প্রশংসিত হয়। মাঠে তার পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব গুণও কোচিং স্টাফের নজর এড়ায়নি।
ক্লাব ফুটবলেও নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়ে চলেছেন কাভান। ২০২৬ মৌসুমে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে প্রায় ৩০টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি