গণ-অভ্যুত্থানে মক্কা বিজয়ের ঘটনা থেকে শিক্ষা

মুহাম্মদ ইমাম হাসান

ইসলাম

৫ আগস্ট ২০২৪, সোমবার। কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়াই জনতা প্রবেশ করছে গণভবনে। খোলা গেটে অজস্র মানুষের জোয়ার। জনতার এই ঢল প্রতিরোধ

2026-08-05T10:07:54+00:00
2026-08-05T10:07:54+00:00
 
  বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬,
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
ইসলাম
গণ-অভ্যুত্থানে মক্কা বিজয়ের ঘটনা থেকে শিক্ষা
মুহাম্মদ ইমাম হাসান
প্রকাশ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৭ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
৫ আগস্ট ২০২৪, সোমবার। কোনো বাধা-বিপত্তি ছাড়াই জনতা প্রবেশ করছে গণভবনে। খোলা গেটে অজস্র মানুষের জোয়ার। জনতার এই ঢল প্রতিরোধ করার সাহস হচ্ছে না কারও, নির্বিকার জালিমগোষ্ঠী। কারও মুখে নেই ‘টুঁ’ শব্দটুকুও। আমরা যখন গণভবনে প্রবেশ করি, ঘড়ির কাঁটায় তখন দুপুর আড়াইটা। জীবনে এই প্রথম গণভবনে প্রবেশ করলাম। 

ভেতরে যে ঢুকতে পারব, কল্পনাও করিনি কখনো। কিন্তু মজলুমের রক্তের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা সেদিন আমাদের সেই সৌভাগ্য দান করলেন। গণভবনে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম যে দৃশ্য দেখেছি, তাতে আমার হৃদয়ে বয়ে গেল শীতল বাতাস। বিজয়ের কৃতজ্ঞতায় অসংখ্য শিক্ষার্থী গণভবনের সবুজ ঘাসে সেজদায় লুটিয়ে পড়েছে। এ যে সত্যিই নয়নাভিরাম দৃশ্য! 

যে প্রজন্ম সম্পর্কে কয়েক দিন আগেও কিছু ইসলামবিরোধী ব্যক্তি দাবি করেছিল- ‘এই প্রজন্ম নামাজ, রোজা ও ইসলাম কী জিনিস, বোঝে না,’ সে প্রজন্মই দেখিয়ে দিল উত্তপ্ত পরিবেশেও কীভাবে রাস্তায় নামাজ পড়তে হয়। কীভাবে বিজয়ের পর আল্লাহর দরবারে সেজদায় লুটিয়ে পড়তে হয়। দুপুর আড়াইটায় যখন যমুনার নিউজে স্বৈরাচারীর পালানোর দৃশ্য ভেসে ওঠে, তখন শুধু গণভবনই নয়; পিচঢালা রাজপথে, শহরের গলিতে অসংখ্য মানুষ সেজদায় লুটিয়ে পড়ে।

কিছুক্ষণ পরপর সমন্বয়ক এবং দায়িত্বশীলরা লাইভে এসে সবাইকে শান্ত থাকতে বলছেন। বলছেন, প্রতিশোধপরায়ণ হওয়া থেকে যেন সবাই বিরত থাকে। অতীতের বিবাদ-বিরহ ভুলে যেতেও বলছেন কেউ কেউ। জানের দুশমনকে এমন নিরুপদ্রব ক্ষমা এবং ছাত্র-জনতার এভাবে সেজদাবনত দৃশ্য দেখে হৃদয়-ক্যানভাসে ভেসে ওঠে হাজার বছর আগের মক্কা বিজয়ের স্মৃতি। সেদিন কোনো বাধা ছাড়াই মুসলিম সেনাবাহিনী মক্কায় প্রবেশ করেছিল। শিরে শিরে বিজয়ী বেশ। বিজয়ের পতাকা উড়ছে এখন মুসলিম সেনাপতির হাতে। কোনো কাফেরের সাহস হচ্ছে না সামনে দাঁড়াবার।

ইকরিমা ইবনে আবি জাহেল শুরুতে কিছুটা বাধা দিলেও তার দুর্ভাগ্য- সেখানে উপস্থিত ছিলেন আল্লাহর তরবারি খ্যাত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.)। তাই রণক্ষেত্র ইকরিমার অনুকূলে যায়নি। ত্রিশজন সঙ্গীর মরদেহ ফেলে সে পলায়ন করে। বিজয়ী কাফেলার সঙ্গে মক্কায় প্রবেশ করেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর সামনে অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে আছে মক্কার কাফের সম্প্রদায়। অতীতের সব অপরাধ একে একে মনে পড়ছে তাদের। রাসুল (সা.)-কে তারা কত কষ্ট দিত! কেউ রাসুল (সা.)-এর পথে বিছিয়ে দিত কাঁটা। সেজদাকালে কেউ বা পিঠে চাপিয়ে দিত আবর্জনা! কী নির্মমতায় নবী পরিবারকে তিনটা বছর বয়কট করে রেখেছিল! তায়েফ থেকে ফেরার পর তারা রাসুল (সা.)-কে বাধা দিয়েছিল মক্কায় প্রবেশে। হিজরতের রাতে তাঁর বিরুদ্ধে করা হয়েছিল হত্যার ষড়যন্ত্র! আজ তারা সবাই সামনে সমবেত।


সবাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কারও মুখে ‘টুঁ’ শব্দটিও নেই। চোখে-মুখে ভয়ের ছাপ। জীবন-মরণ এখন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরবারিতে। তাদের সঙ্গে এখন কী হতে যাচ্ছে? মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি প্রতিশোধ নেবেন? তিনি যদি প্রতিশোধ নেন তাহলে আজ কেউই বাঁচতে পারবে না। 

আল্লাহর রাসুল (সা.) তাদের উদ্দেশে বললেন, ‘আমার প্রতি তোমাদের কী ধারণা?’ তারা উত্তর দিল, ‘আমরা ভালো কিছু আশা করি। কারণ আপনি একজন মহান ব্যক্তি।’ আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন, ‘যাও, তোমাদের সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো। তোমাদের কারও ওপর আমার কোনো অভিযোগ নেই। আজকের দিন ক্ষমার দিন, প্রতিশোধের দিন নয়।’

শিক্ষক, দারুত তারবিয়াতিল ইসলামিয়াহ আল আলামিয়াহ, নিউমার্কেট, যশোর

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   গণ-অভ্যুত্থান  মক্কা  বিজয়  ঘটনা  শিক্ষা  ইসলাম 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: