প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ প্রবেশের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। চুক্তিটি

2026-08-06T16:43:56+00:00
2026-08-06T16:43:56+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬,
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ প্রবেশের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৩ পিএম 
হরমুজ প্রণালির ওমান অংশে নোঙর করা কয়েকটি জাহাজ। ছবি : এএফপি
ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে উপসাগরের দিকে প্রবেশ করা জাহাজগুলোর চলাচল তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব ইরানের হাতে যেতে পারে। এটি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে ইরানের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র এবং দুজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রস্তাবিত চুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা খুব শিগগিরই হতে পারে। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে জাহাজ চলাচলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটন কখনোই সম্মত হবে না।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় থাকা খসড়া চুক্তিতে উপসাগরের দিকে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে উপসাগর থেকে বেরিয়ে আসা জাহাজগুলোর ওপরও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কি না, তা এখনো আলোচনার অন্যতম বড় অমীমাংসিত বিষয়।

এদিকে জাহাজ চলাচলের বিনিময়ে সম্ভাব্য ফি নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান কার্গোর মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি আদায় করতে চায়। অন্যদিকে ওমান এই হার ৩ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষে। যুক্তরাষ্ট্র আবার কোনো ধরনের ফি আরোপের বিরোধিতা করছে।


আঞ্চলিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে কোনো না কোনো ধরনের তদারকি ব্যবস্থায় নীতিগতভাবে সমঝোতা হয়েছে। তবে সেই নিয়ন্ত্রণের ধরন, দায়িত্ব বণ্টন এবং ফি আদায়ের নিয়ম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের আলোচকদের মতে, জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া উচিত এবং কোনো ফি থাকলেও তা বাধ্যতামূলক নয়, স্বেচ্ছাসেবামূলক হওয়া উচিত। 

এ বিষয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে বলেছেন, বাণিজ্যিক জাহাজের যাওয়া ও আসা— উভয় ক্ষেত্রেই ইরানের জলসীমা ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ওমানের সঙ্গে আলোচনায় মৌলিক সমঝোতা হয়েছে এবং চুক্তিটি এখন চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।

তবে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা ইরানি ও আঞ্চলিক সূত্রগুলো সতর্ক করে বলেছে, এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। ফলে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও চুক্তি এখনো স্বাক্ষরিত হয়নি এবং এটি কার্যকর হওয়ার আগে আরও আলোচনা প্রয়োজন হতে পারে।

বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তাই এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবস্থাপনায় যেকোনো পরিবর্তন শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।



সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   ইরান  ওমান  চুক্তি  হরমুজ প্রণালি 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: