এআই নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করলেন পোপ লিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিশ্বকে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও। ফ্রান্সে চার দিনের সফর শুরু করে শুক্রবার তিনি

2026-09-25T19:32:03+00:00
2026-09-25T19:32:03+00:00
 
  শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১০ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
এআই নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করলেন পোপ লিও
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩২ পিএম 
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ প্যারিসের এলিজে প্রাসাদে পোপ লিওকে স্বাগত জানান। ছবি : রয়টার্স
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে বিশ্বকে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন পোপ লিও। ফ্রান্সে চার দিনের সফর শুরু করে শুক্রবার তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এআইয়ের বিকাশ এমন এক ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারে, যেখানে পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে ‘যন্ত্রের স্বর্গের’ হাতে।  

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন এলিজে প্রাসাদে দেওয়া বক্তব্যে পোপ লিও বলেন, মানুষের দৈনন্দিন জীবন যদি ‘যন্ত্রের স্বর্গ’ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত হতে থাকে, তাহলে মানবিকতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। এ পরিস্থিতি এড়াতে নৈতিক বিচারবোধের শিক্ষা জোরদার করা জরুরি। 

যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রথম পোপ হিসেবে লিও দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। ১৬ মাসের পোপত্বে এ বিষয়টি তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রায় ২০ বছর পর কোনো পোপের ফ্রান্স সফরেও তাই এআই প্রসঙ্গটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। 

সহায়তায় মৃত্যুর আইনের সমালোচনা

এআইয়ের পাশাপাশি জীবন ও চিকিৎসা-প্রযুক্তি নিয়ে চার্চের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন পোপ লিও। অসুস্থতার কারণে স্বেচ্ছামৃত্যু বা সহায়তায় মৃত্যুর সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগের সমালোচনা করেন তিনি। দুই মাস আগে ফরাসি আইনপ্রণেতারা এ ধরনের একটি আইনি ব্যবস্থার অনুমোদন দেন। 

পোপ বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে মুনাফাকেন্দ্রিক উদ্যোগে পরিণত করার প্রবণতা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে জেনেটিক পরিবর্তন, সারোগেসি, মানব অঙ্গের বাণিজ্য এবং নিজের মৃত্যুর ব্যবস্থা করে নেওয়ার সুযোগের মতো বিষয় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।  

শান্তির বার্তা নিয়ে ফ্রান্সে

শুক্রবার প্যারিসের অরলি বিমানবন্দরে পোপ লিওকে স্বাগত জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ও তার স্ত্রী ব্রিজিত মাখোঁ। এ সময় শিশুরা গান গেয়ে এবং অটোগ্রাফ চেয়ে তাকে স্বাগত জানায়।

ফ্রান্স সফরে প্যারিসের পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিখ্যাত ক্যাথলিক তীর্থস্থান লুর্দ এবং জার্মান সীমান্তের কাছে মেতজ শহরেও যাওয়ার কথা রয়েছে তার।

প্যারিস যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পোপ লিও বলেন, তিনি ফ্রান্সে শান্তির বার্তা নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমান সময়ে এই বার্তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার প্যারিসের ঐতিহাসিক নটর ডাম ক্যাথেড্রালেও প্রার্থনা অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে তার। ২০১৯ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পুনরুদ্ধার করা এই গির্জায় কোনো পোপের এটিই প্রথম সফর। 


ইউনেস্কোতেও বক্তব্য দেবেন

ফ্রান্স সফরের প্রথম দিনেই জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে পোপের। যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালে সংস্থাটি থেকে সরে যাওয়ার পর ইউনেস্কো বর্তমানে বাজেট সংকটের মুখে রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির সমালোচনাও এর আগে করেছেন পোপ লিও। ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করায় চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্পের বিরাগভাজনও হয়েছিলেন তিনি। 

বিমানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে প্রবেশে বাধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও কথা বলেন পোপ। তিনি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সব সংবাদমাধ্যমই তার ফ্রান্স সফর কাভার করতে স্বাগত।

ফ্রান্সে কমছে ক্যাথলিকদের সংখ্যা   

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ফ্রান্সে ১৯০৫ সালের আইনে রাষ্ট্র ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পৃথক অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটিতে ক্যাথলিক চার্চের সঙ্গে মানুষের সম্পৃক্ততা ধারাবাহিকভাবে কমেছে।

ফ্রান্সের সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা ইনসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মাত্র ২৫ শতাংশ নিজেদের ক্যাথলিক হিসেবে পরিচয় দেন। এক দশক আগে এই হার ছিল ৪৩ শতাংশ।

ফ্রান্সের সংবিধানে ২০২৪ সালে গর্ভপাতের অধিকার অন্তর্ভুক্ত করা এবং সম্প্রতি অসুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের সহায়তায় মৃত্যুর আইন পাস নিয়েও দেশটির ক্যাথলিক নেতৃত্বের সঙ্গে সরকারের মতবিরোধ রয়েছে।

নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ

ফ্রান্সে ক্যাথলিক চার্চের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করাও পোপ লিওর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০২১ সালের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সাত দশকে ফ্রান্সে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার শিশু ক্যাথলিক যাজক ও চার্চের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

এরপর ফরাসি বিশপরা ক্ষতিপূরণ ও শিশু সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নিলেও ভুক্তভোগীরা এখনো চার্চের কাছ থেকে জবাবদিহি ও দায় স্বীকারের দাবি জানিয়ে আসছেন।

ভুক্তভোগীদের সংগঠনের মুখপাত্র ৬৬ বছর বয়সী আলাঁ এসকেরে রয়টার্সকে বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে’—এ কথা ঘোষণা করার বিশাল দায়িত্ব পোপ লিওর ওপর রয়েছে।


সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান 

সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   পোপ লিও  এআই 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: