টানা বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন কাঁচাবাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিক্রেতারা। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে একশ্রেণির ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে সবজি বিক্রি করছেন।
সরেজমিনে চান্দিনা বাজার, এতবারপুর, বদরপুর ও বাড়েরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২৪০ থেকে ৩০০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, করলা ১১০ টাকা, পটল ১১৫ টাকা এবং শসা ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সবজির এমন মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। তাদের অভিযোগ, বৃষ্টি ও বন্যার দোহাই দিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
বাড়েরা গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, অন্য সময়ের তুলনায় এখন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেশি। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দেন। প্রশাসন নিয়মিত বাজার তদারকি করলে এমন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
মেহার গ্রামের সোহাগ বলেন, আমার মাসিক আয় মাত্র ১৫ হাজার টাকা। বাজারে এলেই মাথা ঘুরে যায়। বর্তমান দামে সংসারের খরচ চালানো খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।
চান্দিনা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী ফয়েজ আহমেদ বলেন, টানা বৃষ্টিতে অনেক ফসল নষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে বুড়িচং এলাকায় পানিতে ডুবে অনেক সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে।
আরেক ব্যবসায়ী মহসিন বলেন, গোমতী নদীর বন্যায় বিভিন্ন এলাকার সবজিখেত পানির নিচে চলে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। এ কারণে বাজারে সরবরাহও কম। নতুন উৎপাদন শুরু হলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হলে সবজির দামও কমে আসবে।
তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা লোকসান কাটিয়ে উঠতে তুলনামূলক বেশি দামে সবজি বিক্রি করছেন। পাইকারি ব্যবসায়ীরাও সীমিত লাভে সেই সবজি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করছেন।
এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। খুব শিগগিরই বাজার মনিটরিং টিম গঠন করে বাজার পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা