কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সদরের স্টেশন রোড নামক সড়কটিতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারী, যানবাহন চালক ও ক্রেতা-বিক্রেতারা। মধ্যবাজার চৌরাস্তার ডাব বাজার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা বাস স্টেশন পর্যন্ত যাতায়াতের এই সড়কটির দূরত্ব মাত্র ১০০ মিটার। অথচ এই স্বল্প দূরত্বের সড়কটি এখন সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ এবং ফুটপাতগুলো অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় সড়কটি প্রায় চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিগত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে উপজেলা সদর ও পৌরসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির প্রতি কোনো নজর নেই প্রশাসনের, নেই কোনো উন্নয়নের পদক্ষেপও। প্রশাসনের এই দীর্ঘ ও রহস্যজনক নীরবতা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে এই সড়ক দিয়ে হেঁটে যাতায়াত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সড়কের স্থানে স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং পানি জমে জলাবদ্ধতার রূপ নিয়েছে। এছাড়া চান্দিনার একমাত্র মাছ বাজারটি এই সড়কের মাঝামাঝি অবস্থিত হওয়ায় বাজারের বেশিরভাগ অংশ অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে ফলের দোকান, ডাব-নারকেলের দোকান, কলার বাজার এবং মাটির তৈরি পণ্যের পসরা সাজিয়ে পথচারীদের চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। সড়কের অধিকাংশ স্থানে পিচ-পাথর উঠে রড দৃশ্যমান হয়ে গেছে। এসব খোলা রডে আঘাত পেয়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন পথচারী ও ক্রেতা আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এই সড়কের পাশেই রয়েছে তিনটি প্রাইভেট ক্লিনিকসহ বাজারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এছাড়া পাশের দেবীদ্বার উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই সড়ক। প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য হাজার হাজার মানুষ এই সড়কটি ব্যবহার করেন। ফলে জনস্বার্থেই সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচল উপযোগী করা অত্যন্ত জরুরি।
দেবীদ্বার উপজেলার বাসিন্দা ও পথচারী মোহাম্মদ আলী সুমন বলেন, আমাদের কেনাকাটা ও যাতায়াত চান্দিনা বাজারেই বেশি। স্টেশন রোড হয়েই মূলত চান্দিনা বাজারে আসতে হয়। এছাড়া উপজেলা গেট দিয়ে আরেকটি সড়ক থাকলেও দুটি সড়কই ভাঙাচোরা। কাদা ও ময়লা-আবর্জনায় পা ফেলা যায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সড়কের পাশের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ফুটপাতে দোকান বসিয়ে প্রতিদিন অনেক টাকা চাঁদা আদায় করেন বাজার ইজারাদারের লোকজন। এই আর্থিক লেনদেনের কারণেই তারা কোনো অবৈধ দখলদার দোকানিকে সরাতে চান না। মাছ বাজারের ব্যবসায়ীরাও প্রতিদিন প্রতি ডালা অনুযায়ী টাকা দেন। রাস্তার কী ক্ষতি হলো, তা ইজারাদারদের দেখার বিষয় নয়; তাদের টাকা ঠিক থাকলেই হলো।
এদিকে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে কেন ফুটপাতে ব্যবসা করা হচ্ছে— এমন প্রশ্নের জবাবে একাধিক দোকানদার জানান, তারা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এভাবে ব্যবসা চালিয়ে আসছেন এবং নিয়মিত ইজারাদারকে টাকা দিয়েই তারা ব্যবসা করছেন।
চান্দিনা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হাসান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনার পালকি সিনেমা হল এলাকা থেকে উপজেলা গেট হয়ে পুনরায় মহাসড়ক পর্যন্ত যে সড়কটি রয়েছে, সেটির সার্ভে ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে ডিজাইনের কাজ চলছে। এর সঙ্গে আমরা ৪টি লিংক রোডও সার্ভেতে যুক্ত করেছি। আলোচিত স্টেশন রোডটিও এই ডিজাইনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এস্টিমেটের কাজ শেষ করতে আরও এক মাস সময় লাগতে পারে। এরপর বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে আরইউটিডিপি প্রকল্পের আওতায় অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। আশা করছি, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে চান্দিনা পৌরসভার প্রশাসক ও চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, আমরা এর আগে একাধিকবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করেছি, কিন্তু তারা পুনরায় তা দখল করে নেয়। তাছাড়া সড়কটির কিছু অংশ জেলা পরিষদের মালিকানাধীন, সে ক্ষেত্রে তারাও চাইলে পদক্ষেপ নিতে পারে।
সড়কের বেহাল দশার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, সড়কের ওপরেই মাছ বাজার অবস্থিত এবং ব্যবসায়ীরা প্রচুর পানি ও বর্জ্য সরাসরি সড়কের ওপরে ফেলেন, যার ফলে নর্মদা সৃষ্টি হয়। আমরা ইস্টিমেইট রেডি করছি। ঢাকা থেকে অনুমোদন আসলে দুই পাশের ড্রেন দিয়ে নতুন করে সড়কটি নির্মাণ করা হবে। আশা করি মানুষের দুর্ভোগ কমে যাবে।
সময়ের আলো/জোই