জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগ থেকে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে দলবদল সম্পন্ন করেছেন ১৯ বছর বয়সী আইভোরিয়ান উইঙ্গার ইয়ান দিয়োমান্দে। এই দলবদলের মাধ্যমে তিনি ভেঙে দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি-এর রেকর্ড।
বিপুল অঙ্কের এই চুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদ বোনাসসহ সর্বোচ্চ ১২ কোটি পাউন্ড (প্রায় ১৪ কোটি ইউরো) পর্যন্ত খরচ করতে সম্মত হয়েছে। এর মাধ্যমে রিয়ালের ইতিহাসে জ্যুড বেলিংহামকে (৮ কোটি ৮৫ লাখ পাউন্ড) টপকে সবচেয়ে দামি ফুটবলার হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন দিয়োমান্দে। একই সঙ্গে তিনি ২০১৯ সালে নিকোলা পেপের রেকর্ড ভেঙে আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসেও সবচেয়ে দামি ফুটবলার হিসেবে নিজের নাম লেখালেন। কিলিয়ান এমবাপ্পের পর বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি পাওয়া কিশোর ফুটবলারও এখন তিনিই।
পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনিয়োর নতুন প্রাক-মৌসুম পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুই মৌসুম বড় কোনো শিরোপা না জেতা রিয়াল মাদ্রিদ তাদের আক্রমণভাগ ঢেলে সাজাতে দিয়োমান্দেকে দলে ভিড়িয়েছে। প্রাক্-মৌসুমে মরিনিয়োর ৪-২-৩-১ ফরমেশনে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাশাপাশি আক্রমণভাগের ডান পাশে তাকে নিয়মিত দেখার সম্ভাবনা প্রবল।
রিয়ালে যোগ দেওয়ার বিষয়টিকে শৈশবের স্বপ্নপূরণ হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তায় লাইপজিগকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দিয়োমান্দে। এতে তিনি তার প্রয়াত বোন রোকসানকে স্মরণ করে লেখেন, পরিবারের অনেকেই যখন সন্দেহ প্রকাশ করেছিল, তখন তার বোনই সবসময় বিশ্বাস করতেন, তিনি একদিন বিশ্বসেরা ফুটবলার হবেন।
আইভরিকোস্টের আবিদজানে জন্ম নেওয়া এই তরুণ তুর্কি ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন ট্রায়াল শেষে স্প্যানিশ ক্লাব লেগানেসে যোগ দেন। সেখান থেকে ২০২৫ সালে ২ কোটি ইউরোয় তাকে কিনে নেয় লাইপজিগ। লাইপজিগের হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে বুন্দেসলিগায় ১২টি গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি লিগের সর্বোচ্চ ড্রিবলার হিসেবে ‘বর্ষসেরা নবাগত খেলোয়াড়ের’ পুরস্কার জেতেন তিনি।
সম্প্রতি সমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপে আইভরিকোস্টের হয়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করার পর লিভারপুল ও পিএসজির মতো পরাশক্তিগুলো তাকে পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে। তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে পেছনে ফেলে রেকর্ড গড়ে এই আইভোরিয়ান বিস্ময়কে নিজেদের ডেরায় টেনে আনল রিয়াল মাদ্রিদ।
সময়ের আলো/টিকে