বাংলাদেশকে চাপে রাখতে ভারত সরকার ‘হাসিনা কার্ড’ খেলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ভারতের বাংলাদেশ নীতির পরাজয় ঘটলেও তা থেকে ভারতের নীতিনির্ধারকেরা কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেননি। ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারত বাস্তবে দ্বিমুখী নীতি কৌশল অবলম্বন করেছে। মোদি সরকার একদিকে ভ্রাতৃত্বের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে বাংলাদেশকে চাপে রাখতে দেশটির বিরুদ্ধে তারা ‘হাসিনা কার্ড’ খেলতে শুরু করেছে।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ স্মরণ সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাইফুল হক আরও বলেন, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের শহিদেরা একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। কোনো বিশেষ শক্তি বা গোষ্ঠীর সংকীর্ণ এজেন্ডা বাস্তবায়নে তারা জীবন বিলিয়ে দেননি। ২৪-এর এই অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানে মালিকানা প্রতিষ্ঠায় যারা এটাকে নিজেদের মতো করে পেটেন্ট করার চেষ্টা করছেন, তারা এই অভ্যুত্থানের আত্মাকে ধারণ করতে পারেননি এবং তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়।
তিনি ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেন, গত দুই বছরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য, চাকুরিচ্যুতি ও কর্মহীনতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মানুষের জীবন-জীবিকা এখনো নিরাপদ হয়নি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হলেও শ্রমিকদের জন্য এখনো জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠিত হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিদেশনির্ভর জ্বালানি নীতির কারণেই দেশে আজ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট ঘনীভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন সাইফুল হক। জ্বালানি খাতের বিদেশনির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে বাপেক্সসহ দেশীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে দ্রুত শক্তিশালী করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, আবু হাসান টিপু এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাশিদা বেগম ও সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
সময়ের আলো/জোই