দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম, এনজিওর ঋণের বোঝা আর বুকভরা স্বপ্ন— সবকিছুই যেন এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেছে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দহুলিয়া গ্রামের কৃষক লিয়াকত হোসেনের। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা তার প্রায় ২৪ শতাংশ জমির শততাধিক লাউগাছ কেটে নষ্ট করে দিয়েছে। সকালে খেতে গিয়ে নিজের স্বপ্নের ফসল এভাবে ধ্বংস হয়ে পড়ে থাকতে দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন ওই কৃষক ও তার পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে কৃষক লিয়াকত হোসেনের ছেলে মামুন হোসেন প্রতিদিনের মতো রাস্তার পাশের জমি থেকে লাউ সংগ্রহ করতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, সারি সারি লাউগাছ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। মুহূর্তেই কৃষকের পরিবারের আনন্দের সোনালী স্বপ্ন বিষাদের ছায়ায় ঢেকে যায়।
স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে লিয়াকত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশের জমিতে লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে আসছেন। এই ফসল বিক্রি করে এনজিওর ঋণ পরিশোধ, পরিবারের ভরণ-পোষণ এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু দুর্বৃত্তদের এই নিষ্ঠুরতায় তার সেই স্বপ্ন এখন ধূলিসাৎ, আর তিনি পড়েছেন চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক লিয়াকত হোসেন বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে অনেক কষ্ট করে এই সবজি চাষ করেছি। এই ফসল বিক্রি করেই আমার সংসার চলে ও সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চলে। কে বা কারা রাতের আঁধারে আমার লাউগাছগুলো কেটে দিল আমি জানি না। এক রাতেই আমার এতদিনের পরিশ্রম শেষ হয়ে গেল। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
ছেলের চোখেও বিষাদের ছায়া। মামুন হোসেন বলেন, শনিবার সকালে আমি খেতে লাউ তুলতে গিয়ে দেখি সব গাছ কাটা। দৃশ্যটি দেখে আমি হতবাক হয়ে যাই। বাবার এতদিনের পরিশ্রম এভাবে নিমিষেই নষ্ট করে দেওয়া হলো!
খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের খোঁজখবর নেন। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সময়ের আলো/জোই