ঢাকঢোল পিটিয়ে ও লাল নিশান উড়িয়ে জমির দখল বুঝিয়ে দিয়েছে আদালত। ছবি : সময়ের আলো
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনি লড়াই শেষে আদালতের নির্দেশে ২ একর জমির দখল ফিরে পেয়েছেন প্রকৃত মালিকরা।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নে ঢাকঢোল পিটিয়ে এবং লাল নিশান উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জমির দখল হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিরনইহাট মৌজার ৪.৮৩ একর জমির মালিকানা নিয়ে ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের ইসরাইল হোসেন গংদের সঙ্গে তফিল হোসেন গংদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ২০২০ সাল থেকে আদালতে মামলা চলমান ছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত ইসরাইল হোসেন গংদের জমির বৈধ মালিক হিসেবে রায় প্রদান করেন। বিবাদীপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করলেও, তা খারিজ হয়ে যায়। ফলে, দীর্ঘ ১৬ বছর পর জমির দখল বুঝে নেওয়ার পথ সুগম হয়।
পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় জমিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ছবি : সময়ের আলো
শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পঞ্চগড় সিভিল জজ আদালতের প্রতিনিধি দল পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় বিতর্কিত ওই জমিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এরপর সার্ভেয়ারের মাধ্যমে জমি পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশান স্থাপনের মাধ্যমে ইসরাইল হোসেন গংদের দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
জমির মালিকানা ফিরে পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন- তিরনইহাট ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের ইসরাইল হোসেন ও আশরাফুল আলম, কালারাম জোত এলাকার রাজিয়া খাতুন এবং পঞ্চগড় ঘাটিয়ার পাড়ার সাধনা সুলতানা।
জমি হস্তান্তরের সময় সিভিল জজ আদালতের জারিকারক গিয়াস উদ্দিন ও কমল চন্দ্র সেন, তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সার্ভেয়ার মানিকুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
দখল ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ইসরাইল হোসেন ও তার ছেলে আসাদুজ্জামান জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আমরা এই জমির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। আজ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞ।
আদালতের জারিকারক কমল চন্দ্র সেন জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রকৃত স্বত্বাধিকারীদের জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।