কালিহাতীতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

সারাদেশ

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ১৬৯ নম্বর ভাওয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের

2026-08-09T13:03:11+00:00
2026-08-09T13:03:11+00:00
 
  রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬,
২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
কালিহাতীতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ
কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৩ পিএম 
ভাওয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক। ছবি : সময়ের আলো
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ১৬৯ নম্বর ভাওয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের প্রতিকার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, এলাকার শিক্ষার প্রসারে ২০০৭ সালে ‘ভাওয়াল পল্লী উন্নয়ন যুব সমিতি’র উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে এটি জাতীয়করণ করা হয় এবং ‘১৬৯ নম্বর ভাওয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সহকারী শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে জারিফা পারভীন নামের একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়টিতে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের অব্যাহত অসহযোগিতা ও দুর্ব্যবহারের কারণে মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তিনি বাধ্য হয়ে অন্যত্রে বদলি হয়ে যান। এরপর থেকে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আব্দুর রাজ্জাক পুনরায় ভারপ্রাপ্ত পদটি কুক্ষিগত করে রাখেন।

তার বিরুদ্ধে, উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়। পরীক্ষার ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা নেওয়া।
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসের (যেমন স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস) ভুয়া ভাউচার তৈরি করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ। বিদ্যালয়ের মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য আসা সরকারি বরাদ্দের সিংহভাগ অর্থ আত্মসাৎ করা।


এছাড়াও, বছরের পর বছর ধরে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের কোনো ধরনের অডিট বা আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়নি; এমনকি বিদ্যালয়ের অন্য সহকারী শিক্ষকদেরও এসব হিসাব-নিকাশ থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখা হতো। সবচেয়ে অমানবিক বিষয় হলো, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দিয়ে জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের টয়লেট পরিষ্কার করানোর মতো অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাগজপত্রে ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক’-এর পরিবর্তে সরাসরি ‘প্রধান শিক্ষক’ পদবির সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করছেন আব্দুর রাজ্জাক। শুধু তাই নয়, বিদ্যালয়ের সরকারি দুটি কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার ও মাল্টিমিডিসহ বিভিন্ন দামি প্রাতিষ্ঠানিক সরঞ্জাম নিজের বাসাবাড়িতে নিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন তিনি।

সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয় হলো, আব্দুর রাজ্জাকের এই অবৈধ ‘প্রধান শিক্ষক’ সিলের ঠিক পাশেই ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিএম ফুয়াদের অনুমোদিত স্বাক্ষরও দেখা গেছে। অন্যদিকে, তীব্র গরমের দিনেও শ্রেণিকক্ষের নষ্ট বৈদ্যুতিক পাখাগুলো মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে চরম গরমে অতিষ্ঠ হয়ে শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এবং ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক কিছু অনিয়মের কথা স্বীকার করেন। তবে ‘প্রধান শিক্ষক’ পদবির সিল ব্যবহারের বিষয়ে তার দাবি, ক্লাস্টার কর্মকর্তা জিএম ফুয়াদ মিয়াকে মৌখিকভাবে অবহিত করেই তিনি এটি ব্যবহার করছেন। এছাড়া স্কুলের কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম বাসায় রেখে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের বিষয়টিও তিনি নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন। তবে বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ার পেছনে তিনি একটি চলমান আইনি মামলার অজুহাত দেখান।

এ বিষয়ে ক্লাস্টার কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জিএম ফুয়াদ বলেন, মামলার কারণে বর্তমানে প্রধান শিক্ষক পদায়ন বন্ধ রয়েছে। তবে ‘ভারপ্রাপ্ত’ না লিখে সরাসরি ‘প্রধান শিক্ষক’ হিসেবে সিল ব্যবহারের কোনো নিয়মনীতি আছে কি না— এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে সম্পূর্ণ দায় এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তা বিস্তারিত বলতে পারবেন। তবে অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এদিকে, আনীত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুলসুম সোলায়মানের মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ভাওয়াল গ্রামের শিক্ষানুরাগী ও সচেতন অভিভাবকরা অবিলম্বে বিদ্যালয়ে একজন স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ, অবকাঠামোগত সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   কালিহাতী  টাঙ্গাইল  শিক্ষক  অর্থ আত্মসাৎ  স্বেচ্ছাচারিতা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: