ভোলার সর্বদক্ষিণ সাগর মোহনার চর নিজামের হাজারো নারী-শিশুর জীবন কাটে ভূমিদস্যু আর লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচার আর নির্যাতনের মধ্য দিয়ে। ভূমিদস্যু আর লাঠিয়াল বাহিনীর হুমকি-ধমকিতে চর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে অসহায় মানুষরা। এমন অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অসহায় মানুষরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ চরবাসীর সমস্যার কথা স্বীকার করেন। আদালতে মামলা চলমান জানিয়ে তিনি বলেন, চরবাসীর জীবনের মান উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করছি এবং করে যাব। চরবাসীর যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি আমরা।
সরেজমিন দেখা যায়, অনেক ঘর শূন্য পড়ে আছে। সেগুলোতে নেই কোনো বাসিন্দা। ঘরগুলোতে তালা ঝুলছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল চৌধুরী বলেন, এসব ঘরের মানুষ অত্যাচার, নির্যাতন আর নিয়মিত হুমকি সহ্য করতে না পেরে চলে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চর নিজাম একসময় মনপুরার অংশ ছিল। কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে এই চরটি চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের অংশ।
চরবাসীর অভিযোগ, জমি দখলে নেওয়ার জন্য মনপুরার লাঠিয়াল বাহিনী ও প্রভাবশালীরা আদালতে মামলা করেছে। লাঠিয়াল বাহিনী ক্রমাগত সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সম্প্রতি মানববন্ধন করেন চর নিজামের বাসিন্দারা।
এ সময় তারা নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাদের হাত থেকে রক্ষার আবেদন জানান স্থানীয় এমপি এবং প্রশাসনের কাছে। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নারীরা বলেন, ওরা (লাঠিয়াল বাহিনী) আমাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করছে। আমরা কোনো বিচার পাচ্ছি না। পুলিশের কাছে বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পাচ্ছি না।
স্থানীয়রা জানান, দ্বীপের মাঝে আরেক দ্বীপ চর নিজাম। চরম ঝুঁকিপূর্ণ এই চরটির অবস্থান দ্বীপজেলা ভোলার সর্বদক্ষিণে চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নের। সাগর মোহনার এই বিচ্ছিন্ন চরের মানুষ বরাবরই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে আসছেন। এখানে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে।
বিশেষ করে মেঘনা উত্তাল থাকলে এখানকার সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বিগত ১৭ বছর ধরে মনপুরায় কয়েকটি লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে আসছেন চর নিজামের হাজারো মানুষ।
ধান পাকলে লুট করে নিয়ে যায়। লাঠিয়াল বাহিনীর হাত থেকে বাদ যায় না গরু, ছাগল, মহিষসহ কোনো কিছুই। তাদের অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এরই মধ্যে ঘর-বাড়ি ফেলে চর থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন অনেক বাসিন্দা।
দুর্গম চরের অসহায় হাজারো নারী, শিশুর কথা চিন্তা করে স্থায়ীভাবে চরের শান্তি ফেরাতে স্থানীয় এমপি ও প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের করার দাবি ভুক্তভোগীদের।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে