ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বন্দরনগরী আল-মাখা বা মোচায় নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুতিরা। এতে আরও অন্তত সাতজন নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে একই এলাকায় হুতিদের হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছিলেন।
রোববার সন্ধ্যায় সর্বশেষ হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সোমবার জানিয়েছে, নিহত সাতজনের মধ্যে চারজন সামরিক সদস্য এবং তিনজন বেসামরিক নাগরিক। আহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক।
ইয়েমেনি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত ১১টি ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে শনাক্ত করে ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত না করে সাগরে পড়ে যায়।
হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আল-মাসিরাহ টেলিভিশনে হামলার ভিডিও সম্প্রচার করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেখা যায়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, সৌদি সেনাদের অবস্থান এবং ওই এলাকায় থাকা অস্ত্রের গুদামগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সাতজন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের অধিকাংশ চিকিৎসা নেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে, হামলায় শহরের বেসামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো, মানুষের বাড়িঘর, বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র এবং অন্যান্য স্থাপনার পাশাপাশি সামরিক অবস্থানও লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এর আগে রোববার আল-মাখায় হুতিদের চালানো হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হন। এদের মধ্যে আটজন সামরিক সদস্য ও তিনজন বেসামরিক নাগরিক। আহত হন আরও ৩২ জন।
আগের হামলায় আল-মাখার বন্দরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েকটি ভবন ও বাণিজ্যিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বন্দরের অবকাঠামো, বাণিজ্যিক পণ্য ও খাদ্য সরবরাহের ক্ষয়ক্ষতির কথাও বলা হয়েছে।
সরকারি বাহিনী আরও জানিয়েছে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি চালকবিহীন নৌযান বাণিজ্যিক বন্দরের দিকে এগিয়ে আসার সময় তারা সেটি শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে।
পরে রোববার নতুন করে হামলা শুরুর সময় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অনুগত ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস আল-মাখার বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানায়। তারা হুতিদের নির্বিচারে গোলাবর্ষণের অভিযোগ করে।
হুতিদের দাবি, বিপুলসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ও তাইজ প্রদেশে সৌদি আরবের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো এবং মিত্র বাহিনীকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে শক্তিশালী করার প্রতিক্রিয়ায় হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হুতিদের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিজাম আল-আসাদ আলাদাভাবে দাবি করেছেন, আল-মাখা বন্দরে বিস্ফোরণ, আগুন ও ধোঁয়ার কারণ সেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম মজুত থাকা।
আল-মাখার পাশাপাশি উপকূলীয় শহর হোদেইদাহর দক্ষিণের আল-খোখা এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য তারেক সালেহের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আল-জুমহুরিয়া টেলিভিশন জানিয়েছে, রোববার আল-খোখায় হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র গভর্নরের বাসভবনে আঘাত হানে। এতে হোদেইদাহর সরকারনিযুক্ত গভর্নর আল-হাসান তাহের প্রাণে বেঁচে যান বলে জানানো হয়েছে।