বাংলাদেশের মানুষ আর দিল্লির খবরদারি মেনে নিতে রাজি নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেন, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যারাই অবস্থান নেবে, তাদের এই দেশে থাকার সুযোগ থাকবে না।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া কাজী আজহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী ও জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন হত্যার বিচারের দাবিতে এই জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে সকাল ১০টার দিকে নিহত দুজনের কবর জিয়ারত করেন জামায়াত আমির এবং পরে তিনি নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, রংপুর অঞ্চলে জামায়াতে ইসলামী বেশিসংখ্যক আসন পাওয়ায় সরকার এই অঞ্চলকে উন্নয়ন কাজ থেকে বঞ্চিত করছে, যা রংপুরের মানুষ মেনে নেবে না।
তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, ‘মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য সামনের দিকে আর হাত কিংবা পা বাড়ানো ঠিক হবে না, তা না হলে পরিণতি ভালো হবে না।’
জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘তা বাস্তবায়ন না করলে সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা যে পথে হেঁটেছেন, বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে। শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিতে পেরেছিলেন, কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে লন্ডনে আশ্রয় নেওয়ারও সুযোগ মিলবে না, এমনকি বাংলাদেশেও ঠাঁই হবে না।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের পথ চিরতরে বন্ধ করে সংস্কার সাধন এবং গণতান্ত্রিক ধারা পুনর্বহাল করতে হবে। সঠিক ও গণতান্ত্রিক পথে সরকার পরিচালিত হলে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।’ পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংস্কার রক্ষায় প্রয়োজনে শতবার রাজপথে নামার অঙ্গীকার করেন তিনি।
বক্তব্যে জামায়াত আমির বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, “বর্তমান যুবসমাজ প্রতিবাদ করতে শিখেছে। বিএনপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জাতির সঙ্গে প্রতারণা শুরু করেছে। যারা ‘হ্যাঁ’ প্রচারণা চালিয়ে এখন ‘না’ বলছেন, তারাই একদিন এই দেশ থেকে নাই হয়ে যাবেন। জনতার রায়কে অগ্রাহ্য করে অতীতে কেউ টিকে থাকতে পারেননি, ভবিষ্যতেও কেউ টিকতে পারবেন না।”
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশজুড়ে চুরি-চামারি ও লুটপাট শুরু হয়েছে। চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের হাত অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’ এ সময় দেশের স্বার্থে প্রয়োজনে একবার নয়, শতবার রাজপথে নামার ঘোষণা দেন তিনি।
দুই শিবির ও জামায়াত কর্মী হত্যার তীব্র সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘ক্ষমতার লোভে আর কোনো মায়ের কোল যেন খালি না হয়, সেটাই আমাদের চাওয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘শহীদ সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’
উল্লেখ্য, গত ২১ জুন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের জেরে বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় আহত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৮ আগস্ট মারা যান জামায়াতের যুব বিভাগের কর্মী মো. সালাউদ্দিন।
জামায়াতের গাইবান্ধা জেলা নায়েবে আমির ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়ারেছ এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া জেলা আমির আব্দুল হক, গাইবান্ধা জেলা আমির আব্দুল করিম এমপি, মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু, অধ্যাপক মাজেদুর রহমান এমপি, জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সৈয়দ রোকনুজ্জামান, গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আল কার্যাভী ও সাধারণ সম্পাদক ফাহিম মন্ডল প্রমুখ।
সময়ের আলো/মহু