ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পুটিয়াখালী এলাকার ঝালোবাড়ি খালে অবৈধ বালুবাহী জাহাজের ধাক্কায় সেতু ভেঙে গেছে। এতে রাজাপুর, কাঁঠালিয়া ও ভান্ডারিয়া- এই ৩ উপজেলার বড় একটি অংশের মানুষের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সেতুটি ভেঙে পড়ায় কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, পুটিয়াখালী এলাকার ঝালোবাড়ি খালের ওপর নির্মিত সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন ৩ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। কয়েক বছর ধরেই আয়রন ঢালাইয়ের সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ফলে, বালুবাহী জাহাজ খাল দিয়ে যাওয়ার সময় সেতুতে ধাক্কা দিলে তা ভেঙে পড়ে। এরপর ওই সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় রাজাপুর উপজেলার আরুয়া, সোনারগাঁওসহ আশপাশের এলাকার মানুষের পাশাপাশি কাঁঠালিয়া ও ভান্ডারিয়া উপজেলার বড় একটি অংশের বাসিন্দারা সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বিকল্প পথে চলাচল করতে গিয়ে স্থানীয়দের সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে গেছে।
এ সড়কের ওপর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নির্ভরশীল। বিশেষ করে অগ্রগতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। সেতু ভেঙে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারবে কিনা, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণির মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। দ্রুত সেতুটি নির্মাণ করে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে।’
তারা অভিযোগ করেন, খালে অবৈধভাবে বালু পরিবহনের কারণে সেতুতে জাহাজের ধাক্কা লেগেছে। তাদের দাবি, যে জাহাজের ধাক্কায় সেতুটি ভেঙেছে, সেটি দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি, সেতু নির্মাণের ব্যয় সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায়েরও দাবি জানান তারা।
রাজাপুর উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। বালুর জাহাজের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সময়ের আলো/মহু