চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রেইলর শ্রমিককে মারধরের ঘটনায় বেশকয়েক ঘণ্টা কনটেইনার পরিবহন করেনি প্রাইম মুভার শ্রমিকরা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে কনটেইনার পরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে রাতের মধ্যে পরিবহন ফের চালু হয় বলে বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, বন্দরের পাঁচ নম্বর গেটে কর্মরত সিকিউরিটির সদস্যরা ট্রেইলর শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মোকতার হোসেনকে প্রচণ্ড মারধর করেন। আহত মোকতারকে বন্দরের সিকিউরিটির দায়িত্বে থাকা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দফতরে নেয়া হলেও সুরাহা মেলেনি। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা এক পর্যায়ে কনটেইনার ডেলিভারি নেয়া বন্ধ করে দেন। এতে বেশকিছু সময় কনটেইনার ডেলিভারি বিঘ্নিত হয়। তবে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে।
বন্দর শ্রমিকরা জানান, বন্দর গেট দিয়ে প্রবেশের পাস ইস্যু নিয়ে সোমবার বিকালে ঘটনার সূত্রপাত। ঘটনার সময় ট্রেইলর শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে বন্দর গেটে কর্মরত সিকিউরিটি কর্মীর প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এরপর ধাক্কাধাক্কি হয়। এক পর্যায়ে তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার পর থেকে শ্রমিকরা কনটেইনার পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেন। গেটে শ্রমিকরা ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলও করেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ফের শুরু হয় কনটেইনার পরিবহন।
প্রাইম মুভারস শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশের গেট পাসের নির্ধারিত ফি ৫৭ টাকা। কিন্তু গেটে ৫৭ টাকার বদলে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। সমিতির কোষাধ্যক্ষ মোকতার হোসেনের কাছ থেকেও বাড়তি টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়। এতে গেট থেকে এসে বন্দরের সিকিউরিটি কর্মীরা তাকে মারধর করেন। পাঁচ নম্বর গেটে এই ঘটনা ঘটে। এরপর আমরা বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা বিষয়টি মীমাংসা আশ্বাস দেন। আমরা কিছুসময় কনটেইনার পরিবহন বন্ধ রেখেছিলাম। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে।
সময়ের আলো/আতা