সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধের মামলায় জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১০ আগস্ট) তারা সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক মো. সাইদুর রহমান আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে উচ্চ আদালত থেকে তারা ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ায় সোমবার নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন চান তারা।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৫ মে রাতে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন। এতে নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমান, বিশ্বজিৎ মণ্ডলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকেও আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯ মে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কাজ চালালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২৩ মে প্রকল্প এলাকায় প্রকৌশলী জাহিদ হাসান ও কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকে মারধর করা হয়। এ সময় জাহিদের স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, মামলা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সময়ের আলো/এমকে