রাজধানীর মিরপুরের ১ নম্বর সেকশনে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুরের মামলায় আরও ৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এদিন শাহ আলী থানার এসআই মো. আতোয়ার রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মুহাম্মদ এমরান শুনানি করেন।
কারাগারে যাওয়া ৬ জন হলেন- শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, শাহ আলম, আতিকুর রহমান, কামরুল ইসলাম ও শাকিল।
এর আগে, ২৬ সেপ্টেম্বর একই মামলায় চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ নিয়ে মামলাটিতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলেন ১০ জন।
মামলার অভিযগ থেকে জানা যায়, ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পুরো স্থাপনায় ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, একদল লোক হাতুড়ি, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দেয়াল টপকে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও মো. আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখেন। পরে এক্সকেভেটর দিয়ে একাধিক ভবন ও কক্ষ ভাঙচুর করা হয়।
রাড্ডা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ভাঙচুরের সময় অফিসের আসবাব ও বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ টিকাদান সামগ্রী লুট করা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের দরজা-জানালাও ভাঙচুর করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা বিভিন্ন ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি ও স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়। পরে নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগানো হয়।
মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রায় ৫০ বছর ধরে তারা দরিদ্র ও অসহায় মা ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে।
এ ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সময়ের আলো/মহু