ইরানের আলোচনার টেবিলে নতুন শর্ত রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের কাছ থেকে ‘ক্ষতিপূরণ’ দাবি করেছেন। ট্রাম্প বলেন, তেহরানের হামলায় নিহত ও আহত মার্কিন নাগরিকদের জন্যও যুক্তরাষ্ট্র অর্থ দাবি করবে। নতুন এই দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে থমকে থাকা আলোচনা আরও জটিল করে তুলতে পারে ধারণা বিশ্লেষকদের।
সোমবার (১০ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড। ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে যে কোনও শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের সংঘাত অবসানের জন্য চলমান আলোচনায় নতুন একটি শর্ত যোগ করলেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, পাঁচ মাসের সামরিক সংঘাতে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্য, কয়েক দশক ধরে ইরানের হামলায় যেসব মার্কিন নাগরিক নিহত বা আহত হয়েছেন, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চাইবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ২০০০ সালে ইউএসএস কোল-এ হামলার কথা উল্লেখ করেন। গত ৫০ বছরে মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে— এমন কয়েকটি হামলায় ইরান সমর্থন দিয়েছে বা জড়িত ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যতে ‘যে কোনো ও সব ধরনের আলোচনায়’ ক্ষতিপূরণের বিষয়টি যুক্ত করার জন্য তিনি মার্কিন প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন। সংঘাত নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী নানা বার্তা আসার মধ্যেই ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে এলো।
তিনি একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে আসছেন, অন্যদিকে কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত রোববার ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখন ‘কিছুটা নরম’। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, নতুন করে হামলা চালানোর বদলে অর্থনৈতিক চাপের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে পারে ওয়াশিংটন।
এদিকে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল এখনও কার্যত বন্ধ থাকায় আলোচনাও জটিল হয়ে আছে। ইরান এই সমুদ্রপথ আবার খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে এবং দেশটির তেলশিল্পের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে বলেছে।
এই অচলাবস্থার কারণে জ্বালানির যেমন দাম বেড়েছে এবং তেমনই বৈশ্বিক বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বলছে, ইরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবির ফলে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা আরও কঠিন হতে পারে। কারণ সংঘাতের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ চুক্তির শর্ত নিয়েও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।
সময়ের আলো/আআ