কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার (১০ আগস্ট) আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কয়েকজন আটকা পড়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী বোগোটাসহ বিভিন্ন শহরে আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
পেরেইরায় নিহত ১৮
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে পেরেইরা শহরে। শহরটির মেয়র মরিসিও সালাজার কারাকোল রেডিওকে জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। ধসে পড়া কয়েকটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া মানিজালেস শহরে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন শহরটির মেয়র হোর্হে এদুয়ার্দো রোহাস।
উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
ভূমিকম্পে পশ্চিম কলম্বিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে ভবন ও অন্যান্য স্থাপনায় গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চোকো বিভাগের গভর্নর নুবিয়া কর্দোবা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক রাজধানী কুইবদোতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। শহরটির বিভিন্ন ভবনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পার্শ্ববর্তী রিসারালদা প্রদেশের গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো জানিয়েছেন, দেশটির কফি উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত বড় শহর পেরেইরাতেও বেশ কিছু ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল কোথায়?
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। প্রায় ৪ হাজার ৮০০ মানুষের বসবাসের এই এলাকা রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে।
প্রাথমিকভাবে ইউএসজিএস ভূমিকম্পটির গভীরতা ১০৭ কিলোমিটার জানিয়েছিল। পরে কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা এর মাত্রা ৭ দশমিক ৪ এবং গভীরতা প্রায় ৯৬ কিলোমিটার বলে জানায়।
শক্তিশালী এই কম্পন পার্শ্ববর্তী দেশ ইকুয়েডরেও অনুভূত হয়েছে।
কয়েকটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিত
ভূমিকম্পের পর নিরাপত্তার কারণে পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেন্তুরা বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামোতে কোনো ধরনের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করছেন পরিদর্শকরা।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কম্পন ৯টি বিভাগ এবং দেশের ৩২টি বিভাগীয় রাজধানীতেই অনুভূত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব নেওয়া হচ্ছে।
জরুরি পরিস্থিতির দায়িত্ব নিলেন প্রেসিডেন্ট
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা সান হোসে দেল পালমারে সরকারের জরুরি তৎপরতার দায়িত্ব নিজে নিয়েছেন।
তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা একা নন। রাষ্ট্র এখানে আছে এবং কাজ করছে।’
সরকারি সংস্থা ও জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করছে।
বড় ভূমিকম্প তুলনামূলক বিরল
কলম্বিয়ার মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প প্রায়ই অনুভূত হয়, যেগুলো স্থানীয়ভাবে ‘টেমব্লোরেস’ নামে পরিচিত। তবে ৬ মাত্রার বেশি শক্তিশালী ভূমিকম্প দেশটিতে তুলনামূলকভাবে বিরল।
এর আগে ১৯৯৯ সালে আর্মেনিয়া শহরের কাছে ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্পে এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
এদিকে সোমবারের ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে সম্ভাব্য পরাঘাত ও নতুন ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ