৭০০ কোটি লিটার ইথানলের বাজার নেই, বিপাকে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতে ইথানল উৎপাদনের সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও সেই অনুপাতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা তৈরি হয়নি। এর ফলে দেশটিতে প্রায় ৭০০ কোটি লিটার ইথানল

2026-09-28T19:37:05+00:00
2026-09-28T19:37:05+00:00
 
  সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
৭০০ কোটি লিটার ইথানলের বাজার নেই, বিপাকে ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৭ পিএম 
৭০০ কোটি লিটার ইথানলের বাজার নেই ভারতে। সংগৃহীত ছবি
ভারতে ইথানল উৎপাদনের সক্ষমতা দ্রুত বাড়লেও সেই অনুপাতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা তৈরি হয়নি। এর ফলে দেশটিতে প্রায় ৭০০ কোটি লিটার ইথানল উদ্বৃত্ত হয়ে পড়েছে। এই বিপুল পরিমাণ ইথানলের জন্য নতুন বাজার ও বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ খুঁজছেন উৎপাদকরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।  

দেশটিতে বর্তমানে বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি লিটার ইথানল উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। চলতি বছর এর সঙ্গে আরও প্রায় ৪০০ কোটি লিটার উৎপাদন সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, ভারতের ই২০ পেট্রোল কর্মসূচির জন্য বছরে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি লিটার ইথানল প্রয়োজন। জ্বালানি খাতের বাইরে মদ, ওষুধ ও রাসায়নিক শিল্পে আরও প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি লিটার ইথানল ব্যবহার করা হয়। সব মিলিয়ে উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৭০০ কোটি লিটার ইথানলের জন্য নির্দিষ্ট বাজার নেই।

৬০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে কারখানা 

চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার কারণে ভারতের ইথানল কারখানাগুলো বর্তমানে গড়ে মাত্র ৬০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। শিল্পসংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামী তিন বছরেও কারখানাগুলোর সক্ষমতা ব্যবহারের হার ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশের বেশি হবে না।

শুধু মহারাষ্ট্রেই প্রায় ২৭৭ কোটি লিটার ইথানল উদ্বৃত্ত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫-২৬ সরবরাহ বছরে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ইথানল সরবরাহের জন্য প্রায় ১ হাজার কোটি লিটারের চুক্তি হয়েছিল। তবে গত আগস্ট পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়েছে প্রায় ৮৯৫ কোটি লিটার।

ই২০-এর পর আপাতত নতুন মিশ্রণ নয়

উদ্বৃত্ত ইথানল ব্যবহারের পথ খুঁজলেও সরকার আপাতত পেট্রোলে ইথানলের মিশ্রণের হার ই২০ থেকে বাড়িয়ে ই২৫ বা ই৩০ করার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছে। 

গাড়ির ইঞ্জিনে ই২০ ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগ রয়েছে। এ কারণে বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ইথানল মিশ্রণের লক্ষ্য ই২০-তেই রাখা হয়েছে।

ইথানল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান উইলো ইন্ডিয়ার প্রধান বিক্রয় কর্মকর্তা রবীন্দ্র উতগিকর পেট্রোলে সবার জন্য একই মাত্রার মিশ্রণ বাধ্যতামূলক না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের মতো ই১০, ই২০ ও ই৮৫ জ্বালানির জন্য আলাদা মূল্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। এতে গাড়ির বয়স ও প্রযুক্তি অনুযায়ী ভোক্তারা নিজেদের প্রয়োজনমতো জ্বালানি বেছে নিতে পারবেন।


রফতানির সুযোগও সীমিত 

দেশের অভ্যন্তরে চাহিদা কম থাকায় বিদেশে ইথানল রপ্তানির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে ভারত। তবে প্রথম প্রজন্মের ইথানল রপ্তানিতে এখনো বিধিনিষেধ রয়েছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ভারত দ্বিতীয় প্রজন্মের ইথানল রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। বর্তমানে তানজানিয়া, অ্যাঙ্গোলা ও কেনিয়ার মতো কয়েকটি দেশে অ-জ্বালানি ইথানল সীমিত পরিমাণে রপ্তানি হচ্ছে।

এ ছাড়া গ্রেইন ইথানল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (জিইএমএ) নেপালে ইথানল সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা করছে। দেশটি পেট্রোলে ১০ শতাংশ ইথানল মেশানোর পরিকল্পনা করলেও নিজস্ব ইথানল প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা সীমিত।

ডিজেলেও ইথানলভিত্তিক উপাদান ব্যবহারের উদ্যোগ

পেট্রোলের পাশাপাশি ডিজেলেও ইথানল থেকে তৈরি উপাদান ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে ভারত সরকার ও সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো।

প্রাঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশিস গাইকোয়াড় জানিয়েছেন, তাদের তৈরি বায়ো-আইসোবুটানল প্রযুক্তি বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত।

ভারতে ডিজেলের চাহিদা পেট্রোলের তুলনায় বেশি হওয়ায় ডিজেলে মাত্র ২ শতাংশ বায়ো-আইসোবুটানল মেশানো হলেও ৩ হাজার কোটি রুপির বেশি নতুন প্রকল্পের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাড়ছে অ-জ্বালানি খাতের চাহিদা

বর্তমানে ভারতের মোট ইথানল ব্যবহারের প্রায় ১৮.৭ শতাংশ যাচ্ছে মদ, ওষুধসহ বিভিন্ন অ-জ্বালানি খাতে। এদিকে এক্সট্রা নিউট্রাল অ্যালকোহল বা ইএনএ-এর বাজার ২০২৫ সালে প্রায় ৩৮০ কোটি লিটারে পৌঁছেছে। এই বাজার বছরে প্রায় ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। 

এর অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ভারতীয় ভোক্তাদের একটি অংশ দেশীয় মদের পরিবর্তে ভারতে উৎপাদিত বিদেশি ব্র্যান্ডের মদের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে বিপুল উৎপাদন সক্ষমতার বিপরীতে ইথানলের নতুন ব্যবহার ও বাজার তৈরিই এখন ভারতের উৎপাদকদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। 



সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   ভারত  ইথানল 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: