মানসিক চাপ, একাকিত্ব কিংবা ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি কাটাতে মানুষ নানা উপায় খোঁজে। তবে চীনে দেখা দিয়েছে এর চেয়ে কিছুটা ভিন্ন এক প্রবণতা। সেখানে অর্থের বিনিময়ে কয়েক মিনিটের জন্য পেশিবহুল ও যত্নশীল পুরুষের কাছ থেকে আলিঙ্গন নিচ্ছেন তরুণীরা।
চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন পুরুষদের ‘ম্যান মাম’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। শব্দটি সাধারণত শক্তপোক্ত শরীরের আড়ালে কোমল, ধৈর্যশীল ও সান্ত্বনাদায়ক আচরণের পুরুষদের বোঝাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর পোস্টকে ঘিরেই এই প্রবণতার ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পড়াশোনার চাপ সামলাতে গিয়ে তিনি একজন ভদ্র ও পেশিবহুল পুরুষের কাছ থেকে পাঁচ মিনিটের আলিঙ্গন চেয়েছিলেন। তার দাবি, অতীতে এ ধরনের আলিঙ্গন তাকে নিরাপদ অনুভূতি দিয়েছিল।
পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ চীনের একটি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এতে এক লাখের বেশি মন্তব্য জমা পড়ে। এরপর চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই ধরনের সঙ্গী খোঁজার পোস্টও বাড়তে থাকে।
এটি কোনো আনুষ্ঠানিক পেশা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই আগ্রহী পুরুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের বেছে নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে শারীরিক গঠন, ভদ্রতা, ধৈর্য ও স্বভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেকে মেট্রোস্টেশন, শপিং সেন্টারসহ জনসমাগমপূর্ণ স্থানে দেখা করছেন। সাধারণত পাঁচ মিনিটের আলিঙ্গনের জন্য ২০ থেকে ৫০ ইউয়ান নেওয়া হয়, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯০০ টাকা পর্যন্ত।
এই সেবার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পুরুষ তাদের অভিজ্ঞতাও জানিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ বলেন, অন্যের মুখে স্বস্তি দেখতে পারাটাও তাদের ভালো লাগে।
আবার অনেক নারী শুধু আলিঙ্গনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন না। চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তা, কাজের চাপ কিংবা পড়াশোনার নানা সমস্যা নিয়েও তারা এসব পুরুষের সঙ্গে কথা বলছেন।
সেবাটির সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি জানান, তিনি ভালো সাড়া পেয়েছেন এবং একাধিক আলিঙ্গনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন।
শহুরে জীবনের ব্যস্ততা, একাকিত্ব, পড়াশোনা ও কর্মজীবনের চাপ এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে অনেক মানুষ মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। পরিচিত মানুষের গণ্ডির বাইরে কোনো অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে অল্প সময়ের জন্য পাওয়া সান্ত্বতিও কারও কারও কাছে স্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে।
তবে এই ধরনের আলিঙ্গনকে মানসিক চিকিৎসা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত কোনো পদ্ধতি হিসেবে দেখা হয় না। অপরিচিত মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শে ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘনের ঝুঁকিও রয়েছে। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা হয়রানির আশঙ্কা থাকায় এ ধরনের সাক্ষাতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
চীনে ছড়িয়ে পড়া এই প্রবণতা তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুন কৌতূহল নয়; বরং শহুরে জীবনে একাকিত্ব, মানসিক চাপ এবং মানুষের আবেগগত সংযোগের প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে আনছে।
সময়ের আলো/কেএইচও