হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ নেই, যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক তেলের দামে যে অতিরিক্ত মূল্য যোগ হয়েছে, সেটিকে তিনি ওয়াশিংটনের দাবির বিপরীত প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর আগের দামের তুলনায় বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দামে প্রায় ৩৫ ডলারের প্রিমিয়াম যুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, তেলের বাজারের এই মূল্যবৃদ্ধিই প্রমাণ করে যে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
গালিবাফ তার পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে ব্যঙ্গ করে লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র বলছে ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করে না, অথচ বাজারে বড় ধরনের প্রিমিয়াম দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন, বাজার হয় ভুল হিসাব করছে, নয়তো যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণনা বাস্তব পরিস্থিতিকে আড়াল করছে।
তেলের বাজারে হরমুজের প্রভাব
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। ফলে এ জলপথে সংঘাত, অবরোধ বা জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং দাম বাড়তে পারে।
গালিবাফের বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, মার্কিন নৌ অবরোধ এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে।
তবে তার তেলের দামের হিসাব ও রাজনৈতিক দাবিগুলো ইরানের পক্ষের বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তেলের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পেছনে হরমুজ পরিস্থিতির পাশাপাশি যুদ্ধের ঝুঁকি, সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও অন্যান্য বাজারগত কারণও ভূমিকা রাখতে পারে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ