লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মৃত্যুর ৩২ বছর পর বড় ভাই ফয়েজ আহমেদের কবর সরানো হয়েছে। উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নাজির সদ্দার বাড়িতে এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরহুম নজির সর্দার ৫৮ শতক জমির বড় একটি অংশ তার দুই ছেলে আক্তার হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করে নেন বলে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ। অবশিষ্ট জমি থেকে কবরস্থান ও রাস্তার জায়গা বাদ দেওয়ার পর আট ভাই-বোনের মধ্যে বণ্টনের জন্য প্রায় এক শতক জমি অবশিষ্ট থাকে। হিসাব অনুযায়ী, এতে প্রত্যেকের ভাগে পড়ে সামান্য পরিমাণ জমি।
পরিবারের বড় ছেলে ফয়েজ আহমেদ প্রায় ৩২ বছর আগে মারা যান। তার কবর পারিবারিক ভিটায় ছিল। সম্প্রতি অবশিষ্ট এক শতক জমির অংশ নিয়ে পারিবারিক বিরোধ দেখা দিলে সেখানে ফয়েজ আহমেদের কবর রাখা নিয়ে তার ছোট ভাইদের আপত্তি ওঠে বলে স্বজনরা জানান।
স্বজনদের দাবি, কবরটি নিয়ে আপত্তি ও জমির অংশ দাবি করায় একপর্যায়ে ফয়েজ আহমেদের ওয়ারিশরা কবরটি সেখান থেকে স্থানান্তর করতে বাধ্য হন। পরে পার্শ্ববর্তী মার্টিন ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকায় কবরটি পুনরায় দাফন করা হয়।
৩২ বছর পর পরিবারের বড় ভাইয়ের কবর স্থানান্তরের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নানা আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে পারিবারিক সম্পর্ক ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও দীর্ঘদিনের একটি কবর স্থানান্তরের ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পারিবারিক বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে মৃত স্বজনের কবরের মর্যাদা রক্ষা করা উচিত ছিল।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ জামান বলেন, বিষয়টি আমাকে আগে কেউ কিছু জানায়নি। আমি দ্রুত খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।
সময়ের আলো/এসএকে