বরিশালের উজিরপুরে খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে অব্যয়িত ৬০ লাখ ৮২ হাজার ৪০৩ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা। সরকারি অর্থ সাশ্রয় ও স্বচ্ছ ব্যবহারের এমন উদ্যোগে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশংসা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার দাসেরহাট বাজার থেকে গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ কমপ্লেক্স হয়ে পঞ্চগ্রাম বাজার এবং ভায়া গুঠিয়া বাজার অভিমুখে খাল পুনঃখনন প্রকল্পে মোট বরাদ্দ ছিল দুই কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা। কাজের সঠিক মান বজায় রেখে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্প শেষ করায় এই বিশাল অংকের অর্থ সাশ্রয় হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে খালের নাব্যতা কমে যাওয়ায় এলাকায় পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে বর্ষা মৌসুমে তীব্র জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচসংকটে পড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো স্থানীয় কৃষকদের। সমস্যার স্থায়ী নিরসনে সরকারের উদ্যোগে খালটি পুনঃখনন করা হয়।
গুঠিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, খালটি খনন করার পর এখন পানি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। এতে কৃষকেরা সহজেই সেচ সুবিধা পাবেন এবং ফসল উৎপাদন বাড়বে। এলাকার কৃষি ও সামগ্রিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশংসা করে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। শতভাগ কাজ সম্পন্ন করে উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার এই সৎ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্য সব উপজেলার জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসাইন জানান, সরকারি নির্দেশনা ও নকশা হুবহু অনুসরণ করে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই কাজের সুফল স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও কৃষকেরা বহু বছর ধরে ভোগ করবেন।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী সুজা বলেন, জনগণের করের টাকার যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার পর যে টাকা উদ্বৃত্ত ছিল, তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা অন্য উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হতে পারবে। সরকারি অর্থ সাশ্রয় ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।
সময়ের আলো/এসএকে