ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি সফর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী

এমএকে জিলানী

জাতীয়

আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠাতব্য ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা-দিল্লি নানান সমীকরণের এই পর্যায়ে ইতিবাচক

2026-08-11T20:36:33+00:00
2026-08-11T20:41:27+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬,
২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি সফর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৬ পিএম  আপডেট: ১১.০৮.২০২৬ ৮:৪১ পিএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি : সংগৃহীত
আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠাতব্য ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা-দিল্লি নানান সমীকরণের এই পর্যায়ে ইতিবাচক পরিস্থিতি উদ্ভবের চিন্তা থেকে শেষ মুহূর্তে দিল্লি সফরের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফর করলে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, ঢাকা-দিল্লি উভয়পক্ষই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী। কেননা যেখানে দুই দেশের সীমান্ত একে অপরের সঙ্গে লাগোয়া সেখানে কোনো পক্ষই একা একা এগিয়ে যেতে পারে না, উভয়েরই উন্নতিতে একে-অপরের সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব প্রয়োজন। 

দিল্লি হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে এবং তাকে ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেওয়ায় ঢাকা চটেছে। এই ঘটনায় ঢাকা বিবৃতি প্রচার করে বাংলাদেশের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ করেছেন। ওই সাক্ষাতের আগের দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি এবং ওই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সমস্যা থেকে শুরু করে নানান খুঁটিনাটি ও সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পথ সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে।

দিল্লি সফরের জন্য ভারত সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দুই ধরনের আমন্ত্রণ দিয়েছে- 
এক. ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের পর সরকার গঠনের পরপরই ভারত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লি সফরের জন্য রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণ জানায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান, ভারতের এই আমন্ত্রণটি ঢাকা দেখছে, সময় সুযোগ অনুযায়ী সফর হবে। 

দুই. আগামী সেপ্টেম্বরে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ শেসনে যোগ দেওয়ার জন্য বিমসটেক (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন) এর চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে বিমসটেক এর চেয়ার হিসেবে আমন্ত্রণ জনানোয় আপত্তি তুলেছে ঢাকা।


কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে দিল্লি সফর করতে পারেন। এতে অবাক হওয়ার কিছুই নাই। কেননা আস্তে আস্তে দুইপক্ষের মধ্যে কথা-বার্তা শুরু হয়েছে। দুইপক্ষের মধ্যে আলাপ কিন্তু বন্ধ ছিল না। যেটা ছিল যে ঢাকা সবসময়েই গঠনমূলক আলোচনা করতে চেয়েছে কিন্তু দিল্লির আচরণ ছিল সংকট জিইয়ে রাখার মতো। 

গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় দূতের সাক্ষাতের পর ঢাকা মনে করছে, দিল্লি তার আচরণে পরিবর্তন আনছে এবং প্রতিবেশির সঙ্গে মর্যাদা ও সুস্থ প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরপরই ভারতীয় দূতের দিল্লি যাত্রা বার্তা দেয় যে দিল্লির হয়ত টনক নড়েছে। যা চলমান আগেস্টের শেষদিকে আর দৃশ্যমান হতে পারে। আসলে রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নাই। আর কূটনীতি, রাজনীতির বাইরের কিছু না। রাজনীতিকে মসৃণ গতিতে এগিয়ে নিতেই কূটনীতি। আবার কূটনীতিকে রাজনীতির বাহনও বলা যায়। যে কারণে শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী ব্রিকস আউটরিচ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর ও আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গত সোমবার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বিমসটেকের দাওয়াত দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়েছে চেয়ারপারসন অব বিমসটেক। এই পার্থক্যটা আপনারা বোঝার চেষ্টা করেন। আমরা এখনো এ বিষয়ে (বিমসটেক ইস্যূতে ভারত সফর) কোনো নীতি... এ সিদ্ধান্ত নেই নাই। 

তিনি আরও বলেন, এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে একটা চিঠি লিখেছেন এবং সেই চিঠিটি আমাদের সরকার গঠনের দিন হস্তান্তর করা হয়েছিল, সেখানে তিনি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেটা আমরা দেখব কোনো এক সময়ে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত যে পদ্ধতিতে আমন্ত্রণ করেছে তা ঢাকার পছন্দ হয়নি। তাই বলে ঢাকা সেই আমন্ত্রণ সরাসরি প্রত্যাখ্যানও করেনি। 


পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। অর্থাৎ এখনো সম্ভাবনা আছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সোমবার সাক্ষাতের পর ভারতীয় হাইকমিশনার দিল্লি গেছেন। সম্পর্কের পরবর্তী করণীয় ঠিক করতেই তিনি দিল্লি গেছেন। শেষ মুহুর্তে আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সম্মেলনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফরে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুনভাবে ‘রিঅ্যালাইন’ করতে হবে। আমাদের তো প্রতিবেশী পাল্টানো সম্ভব নয়। বন্ধু পাল্টানো যায়-পররাষ্ট্রনীতিতে এমন কথা বলা হয়। তাই আমাদের এনগেজ করতে হবে। আমাদের সম্পর্ক নতুন করে রিঅ্যালাইন করতে হবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে, তবে তা হতে হবে দুই স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে। আগে ভারত যেভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে চেয়েছিল, সেখানে নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রবণতা ছিল। ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সরকারের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তৈরি হতে হবে।

ভারতের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, আমাদের হাই কমিশনার গতকাল (সোমবার) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে। আপনি যে আমন্ত্রণের (ব্রিকস) কথা উল্লেখ করেছেন, সে বিষয়ে বলতে গেলে, আমরা একটি দ্বিপাক্ষিক সফরের পাশাপাশি দিল্লিতে অনুষ্ঠাতব্য ব্রিকস আউটরিচ অধিবেশনে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা এই নির্দিষ্ট বিষয়ে আপনাদের অবহিত রাখব।


সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েন যেন আর কাটছেই না। আমরা যেন এক পা এগিয়ে দুপা পিছিয়ে যাচ্ছি। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে ভারতের দিক থেকে বারবার বলা হচ্ছিল, ভারত বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে এনগেজড হতে চায়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া প্রয়াত হলে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ দেন। খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে শোক প্রকাশ করেন। ভারতের লোকসভাতেও শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।’ 

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে নতুন সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর ভারত শুধু অভিনন্দনই জানায়নি, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে পরিষ্কার ইঙ্গিত দিয়েছিল যে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে ভারত সক্রিয় হবে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ভারতের বন্দরগুলোয় ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পায়, জ্বালানি সংকটের সময় জ্বালানি সহায়তা পায়। কিন্তু পশ্চিম বঙ্গের রাজ্যসভা নির্বাচনের পর থেকে সীমান্ত হত্যা এবং পরবর্তীতে পুশ-ইন চেষ্টার মধ্য দিয়ে ভারত পুনরায় পুরোনো বৈরীতায় পাকাপোক্তভাবে ফিরে যায়।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অমীমাংসিত অবস্থায় আছে। আমাদের সেসব নিয়ে আলোচনা করতে হবে। সীমান্ত উত্তেজনা বাংলাদেশকে সেসব ইস্যুতে চাপে রাখার ভারতীয় কৌশল হতে পারে। আমাদের যত বেশি সম্ভব আলোচনা করতে হবে। অর্থাৎ, যত সমস্যা, তত আলোচনা। যেখানে যতটুকু আলোচনার সুযোগ পাওয়া যায়, ততটুকু সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।’ 

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   ব্রিকস সম্মেলন  দিল্লি সফর  প্রধানমন্ত্রী 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: