গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে অস্থায়ী নিয়োগে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিক্ষোভের একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের একটি কক্ষে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যভাণ্ডার তৈরির জন্য অস্থায়ীভাবে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে পরীক্ষা নেওয়া হয়। সোমবার রাতে ফল প্রকাশের পর নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নিয়োগ বাতিল এবং ইউএনওর অপসারণের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় এনসিপি ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও ও বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সকাল থেকেই বিক্ষুব্ধরা উপজেলা পরিষদ এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
ভাঙচুর ও বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিক তৌহিদুর রহমান তুহিন। তিনি জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ ও তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হয়ে তাকে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন। এতে তিনি আহত হয়েছেন। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকেরা নিন্দা জানিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পরে বিক্ষুব্ধরা উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশ করেন। সেখানে ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও এনসিপির স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। তারা নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণের দাবি জানান।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ফুলছড়ি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এরশাদুল হক বলেন, ‘নিয়োগে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে নিয়োগ বাতিল এবং ইউএনওর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ইউএনওর কার্যালয়ে ভাঙচুর করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ও ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুরের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কলটি রিসিভ হয়নি।
সময়ের আলো/কেএইচও