দেশব্যাপী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম শুরু হলেও বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে এখন পর্যন্ত কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়নি। ফলে উপজেলার ৩০৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক চরম হতাশায় পড়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলা কমিটিকে সভা করে শিক্ষকদের বদলীর আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দিয়েছে। অথচ মোরেলগঞ্জ উপজেলায় এ সংক্রান্ত আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শেফাইনূর আরেফিন বলেন, আমরা চিঠি পেয়েছি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)। আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির খসড়া করা হয়েছে। ইউএনও সাহেব জেলার মিটিংয়ে আছেন। একটু সময় লাগতে পারে। আমরা কাজ করছি।
এদিকে শিক্ষকদের অভিযোগ, হাতে সময় আছে মাত্র ৩ দিন। এখনো আবেদন গ্রহণ শুরু হয়নি। এর মধ্যেই আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন, বদলী হতে ইচ্ছুক শিক্ষকদের আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় কর্তৃপক্ষের হাতে নেই। শিক্ষকদের প্রশ্ন, এ অবস্থায় কীভাবে শত শত শিক্ষকের বদলীর আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে যাচাই-বাছাই কমিটি?
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, জটিলতা থাকায় কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে, কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আবেদন নেওয়া শুরু করার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ অক্টোবর নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের আগে বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলা কমিটি গঠন ও সভা আহ্বান করে সহকারী শিক্ষকদের বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, উপজেলার অভ্যন্তরীণ শূন্যপদে শিক্ষক বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন না হলে জেলা কমিটি কর্তৃক নতুন শিক্ষক পদায়নে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই উপজেলা পর্যায়ের বদলি কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।
এছাড়া সহকারী শিক্ষকদের অন্য উপজেলা বা জেলায় বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই করে নীতিমালা অনুযায়ী বদলিযোগ্য হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠাতে বলা হয়েছে।
সময়ের আলো/এনএন