ঝালকাঠিতে ধর্ষণ মামলার আসামিকে স্বামী হিসেবে পেতে ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল ও বিষ খেয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন মামলার বাদী রুনু আক্তার (৩০)। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার যুক্তিতর্ক চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হক বাদীর হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপক্ষের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার এবং আসামিপক্ষের আইনজীবী মল্লিক মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন কবীরের যুক্তিতর্ক শোনেন।
শুনানিকালে ট্রাইব্যুনালের বিচারক, আইনজীবী ও নারী পুলিশ সদস্যরা কাঠগড়ায় দাঁড়ানো বাদী রুনু আক্তারকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বিচারককে হুমকি দিয়ে রুনু আক্তার বলেন, স্যার, আপনি যদি আসামি আলামিনের সঙ্গে আমার বিয়ের ব্যবস্থা না করেন, তবে আমি এ জীবন রাখব না, বিষ খেয়ে আপনার সামনে আত্মহত্যা করব।
ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদার জানান, রোববার এই মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। মামলার বাদী রুনু আক্তার রাজাপুর থানার জগন্নাথপুর গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে এবং মনির হোসেনের সাবেক স্ত্রী। আর আসামি রাজাপুর থানার সাবেক এএসআই ও পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার উত্তর মুরাদিয়া গ্রামের মো. ইউনুচ মোল্লার ছেলে মো. আল-আমিন মোল্লা। ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন ও ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে এএসআই আল-আমিন রুনু আক্তারকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
এই অভিযোগে ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করা হয়। সিআইডির এসআই মো. মুরসালিন ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর আল-আমিনকে অভিযুক্ত করে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর আসামি আল-আমিন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তৎকালীন বিচারক এম এ হামিদ তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এরপর ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এ মামলায় বাদী ও তার নাবালক ছেলে মুবিন হোসেনসহ চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় থেকে রোববারের যুক্তিতর্ক শুনানির দিন পর্যন্ত মামলার বাদী ট্রাইব্যুনালে উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং হট্টগোল করেন।
মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী নাসির উদ্দিন কবীর বলেন, রোববার যুক্তিতর্ক শুনানিকালের সময় মামলার বাদী রুনা আক্তার একাধিকবার কর্কশ ভাষায় আমার ওপরও চড়াও হয়েছেন এবং শুনানিতে আমাকে বারবার বেগ পেতে হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি বিচারককে হুমকি দিয়ে বলেন, আসামির সঙ্গে তার বিয়ের ব্যবস্থা করে দিতে হবে, না হলে রায়ের দিন ট্রাইব্যুনালে সবার সামনে তিনি নিজেকে শেষ করে দেবেন।
পিপি আক্কাস সিকদার আরও জানান, ট্রাইব্যুনালের বিচারককে শুধু মৌখিকভাবেই নয়, একটি লিখিত দরখাস্তের মাধ্যমেও উদ্ভট দাবি জানিয়েছেন বাদী রুনু আক্তার। সেখানেও তিনি আসামি আল-আমিনকে স্বামী হিসেবে পেতে ট্রাইব্যুনালের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এমনকি তিনি তার ব্যক্তিগত চেম্বারে গিয়েও হুমকি দিয়ে বলেছেন, আসামি আল-আমিনকে স্বামী হিসেবে না পেলে তিনি কাউকে ছাড়বেন না এবং নিজের জীবন দিয়ে বিচারকসহ সবাইকে ফাঁসিয়ে দেবেন।
তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারার বিচারে আসামির মৃত্যুদণ্ড বা কারাদণ্ড হতে পারে, আবার খালাসও হতে পারে। তবে ট্রাইব্যুনাল আসামির সঙ্গে ভিকটিমের বিয়ের আদেশ দিতে পারে না; এটি আদালতের বাইরে সমঝোতা হতে পারে।
মামলার বাদী রুনু আক্তার বলেন, আমি ধর্ষণ মামলা করেছি আল-আমিনকে স্বামী হিসেবে ফেরত পেতে। তাকে সাজা দিয়ে আমার কী লাভ? আমি যেভাবেই হোক আল-আমিনকে চাই।
সময়ের আলো/আতা