রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাতে দোকান বসানো ও চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে নিউমার্কেট থানা যুবদল এবং ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর নিউমার্কেটস্থ বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি পরবর্তীতে প্রিয়াঙ্গন মার্কেট সংলগ্ন বসুন্ধরা গলিতে ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতের দোকান থেকে টাকা তোলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ উঠেছে, নিউমার্কেট থানা যুবদলের সদস্য সচিব এ কে এম চঞ্চল, ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক ইফতেখার এবং সদস্য সচিব শাহাদাত, সোহেল, সুমন ও আজিমসহ ৪০-৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা ও ছুরি নিয়ে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
পরবর্তীতে এ হামলার খবর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিল্লাত হোসেন গ্রুপের নেতাকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা একত্রিত হয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে উভয় পক্ষ আবারও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের পর আহতদের প্রথমে ধানমন্ডির পপুলার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহত নেতাকর্মীরা হলেন - যুগ্ম আহ্বায়ক প্রিন্স খন্দকার (২৬), মো. সুমন সিকদার (২৮), আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান (৩২), সায়মন ইসলাম (২৭), সদস্য মুশফিকুর রহিম (২৬), জিহাদুল ইসলাম (২৯), শাকিব হাসান (২৭) ও ইমরান হোসেন (২৫)।
অন্যদিকে যুবদলের পক্ষে চিকিৎসাধীন রয়েছেন - জাকির (৫০), জাকির (৩৮), সুমন (২৮), শাহ আলম (২৮), ইদ্রিস (৪৫) ও রাকিব (৩২)।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় রাত ১১টা পর্যন্ত ১৪ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে জরুরি বিভাগে এসেছেন। আহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সময়ের আলো/টিকে