মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পাহাড়ি টিলা কেটে রিসোর্ট ও বসতঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের নুরজাহান চা বনসংলগ্ন টিপরাবাড়ি মৌজায় রাতের আঁধারে ও প্রকাশ্যে টিলা কাটার অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। এতে ওই এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন এলাকা হিসেবে কমলগঞ্জের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র টিলা কেটে রিসোর্ট নির্মাণসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা ও বসতবাড়ি গড়ে তুলছে। এক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের বিধিনিষেধও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
টিপরাবাড়ি মৌজায় টিলা কেটে বসতঘর নির্মাণকারী মুজিব মিয়া বলেন, আমি অতীতেও টিলা কেটে বাড়িঘর করেছি, এতদিন কেউ কিছু বলেনি। আজ হঠাৎ শুনছি টিলা কাটা যাবে না। আমার কাগজের জায়গায় আমি কাটতেই পারি।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, পর্যটনের বিকাশ প্রয়োজন, তবে তা কোনোভাবেই প্রকৃতি ধ্বংস করে নয়। কমলগঞ্জের টিলাগুলো এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্বিচারে টিলা কাটা হলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয়রা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে টিলা কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদার বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি হলেও টিলা বা পাহাড় কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। নুরজাহান চা বাগান ও টিপরাবাড়ি এলাকায় টিলা কেটে রিসোর্ট ও ঘরবাড়ি নির্মাণের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই