আদালতের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া থেকে রাতের আঁধারে অবাধে বালু উত্তোলন করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে একদিকে যেমন হুমকির মুখে পড়েছে এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব।
সরেজমিনে দেখা যায়, কমলগঞ্জের আদমপুর, মুনসিবাজার ও পতনঊষার ইউনিয়নের পাহাড়ি ছড়াগুলোতে ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত চলে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। ড্রেজার মেশিন ও ট্রাক্টর দিয়ে ছড়ার বুক চিরে তুলে নেওয়া হচ্ছে বালু।
স্থানীয়রা জানান, প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন এলেই কাজ বন্ধ রাখা হয়। তারা চলে গেলেই আবার শুরু হয় লুট।
গত বছর পরিবেশের ক্ষতি বিবেচনা করে মৌলভীবাজারের একটি আদালত কমলগঞ্জের পাহাড়ি ছড়া ও টিলা থেকে যেকোনো ধরনের বালু উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু সেই আদেশ এখন শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘আদালত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, আমরা শুনেছি। কিন্তু যারা বালু তুলছে, তারা খুবই প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও নেই।’
পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু তোলার ফলে নদীর নাব্যতা কমছে, কৃষি জমি ভাঙছে এবং পাহাড় ধসের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি পানি দূষণ ও মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে।
অন্যদিকে বৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে সরকার যে রাজস্ব পেত, অবৈধভাবে লুটের কারণে সেই রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে রাষ্ট্র।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দীপ তালুকদার বলেন, ‘আদালতের আদেশ আমরা পেয়েছি। অভিযান চলমান আছে। কয়েকটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হলে বালু উত্তলন কমিয়ে আনতে পারব, আশা করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরিবেশ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন।’
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া ছাড়া এভাবে দিনের পর দিন বালু লুট সম্ভব না। দ্রুত আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করে পরিবেশ ও সরকারের রাজস্ব রক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
সময়ের আলো/মহু