উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শতাধিক ছড়া থেকে বেপরোয়াভাবে বালু তোলার কারণে পরিবেশ, প্রতিবেশ, কৃষিজমি ও স্থানীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একইসাথে সরকারও হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব।
খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজার জেলায় অনুমোদিত সিলিকা বালুর কোয়ারি রয়েছে ৩৩টি। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) উদ্যোগে জেলার ৫১টি পাহাড়ি ছড়াকে সিলিকা বালুসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ১৯টি ছড়ায় অযান্ত্রিক পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হওয়ায় ২০১৬ সালে দায়ের করা এক রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) ও পরিবেশগত ছাড়পত্র (ইসিসি) ছাড়া এসব বালুমহালের নতুন ইজারা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কমলগঞ্জ উপজেলার দেওরাছড়া, সুনছড়া, জপলাছড়া ও লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন পাহাড়ি ছড়া থেকে প্রকাশ্যে সিলিকা বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। শ্রমিক দিয়ে বালু তুলে ট্রাক, পিকআপ, ট্রলি ও ঠেলাগাড়িযোগে তা বিভিন্ন স্থানে পরিবহন ও বিক্রি করা হচ্ছে।
এতে ছড়ার বাঁধ, টিলা, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী।
বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আক্তার বলেন, ইজারা ছাড়া বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। এটি বন্ধ করা প্রশাসনের দায়িত্ব। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করছেন, তারা উচ্চ আদালতের রায় অমান্য করছেন।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওছড়া পরিদর্শন করা হয়েছে। এছাড়া সিলিকা বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়ে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ঘটনাস্থলে পাঠানো হলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, উপজেলার অন্যান্য ছড়াতেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/আতা