মানিকগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করতে গিয়ে শ্বশুর ও শ্যালকের হাতে ধরা পড়ে জামাই। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ধস্তাধস্তিকালে জামাই তার শ্বশুরের অণ্ডকোষে লাথি মারলে নিহত হন শ্বশুর। সোমবার ভোররাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের শাকরাইল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সিদ্দিক মিয়া গড়পাড়া ইউনিয়নের শাকরাইল গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে গ্রেফতারকৃত জামাই রাসেল একই ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের মৃত হাবিবুল্লাহর ছেলে। প্রায় ছয় বছর আগে সিদ্দিকের মেয়ে আশার সঙ্গে রাসেলের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
সোমবার রাতে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির উদ্দেশ্যে শ্বশুরবাড়িতে যায় রাসেল। এ সময় তার শ্যালক শফিক ও শ্বশুর সিদ্দিক অন্ধকারে তাকে ধরে ফেলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এসময় রাসেল তার শ্বশুরের অণ্ডকোষে লাথি মারে বলে অভিযোগ রয়েছে। আলো জ্বালানোর পর পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, তাদের মেয়ে আশার স্বামী রাসেল। পরে শ্বশুর সিদ্দিককে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে রাসেলকে আটক করে স্থানীয়রা গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এলাকাবাসী জানায়, রাসেল নেশাগ্রস্ত। নেশার টাকার জন্য সে প্রায়ই নানা অপকর্ম করে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মনির হোসেন বলেন, রাসেলকে গ্রেফতার করার পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তার শ্বশুরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মানিকগঞ্জের ঘিওরে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া প্রায় ১৩ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. সামিউলকে (৪০) রাজশাহীর বোয়ালিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে ওই ব্যবসায়ীর মেয়ের স্বামী এবং ঘরজামাই হিসেবে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে। সোমবার দুপুরে এসব তথ্য জানায় পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঘিওর থানার ওসি মুহাম্মদ মুহব্বত কবীর। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে রাজশাহীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সময়ের আলো/আতা