চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড যেন প্রকৃতির এক অনন্য মিলনস্থল। একই জনপদে পাহাড়, সমুদ্র, বন আর ঝরনার বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য ভ্রমণপিপাসুদের টেনে নেয় বারবার। চন্দ্রনাথ পাহাড়, গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত, কুমিরা ঘাট, বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত, ঝরঝরি ও কমলদহ ঝরনা ট্রেইল এবং সীতাকুণ্ড ইকোপার্কসহ অসংখ্য দর্শনীয় স্থান নিয়ে সীতাকুণ্ড এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্য। ছুটির দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে এসব পর্যটন স্পট।

পাহাড় ও সবুজের হাতছানি
সীতাকুণ্ডের পাহাড় ও বনাঞ্চলের আকর্ষণ ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে বরাবরই আলাদা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ১৫২ ফুট উঁচু ঐতিহাসিক চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে মন্দির। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি পাহাড়ি পথ, সবুজ প্রকৃতি ও চারপাশের নৈসর্গিক দৃশ্য প্রকৃতিপ্রেমীদেরও আকৃষ্ট করে।
চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক। বন্যপ্রাণী, নানা প্রজাতির গাছপালা এবং সহস্রধারা ও সুপ্তধারা ঝরনা এ পার্কের অন্যতম আকর্ষণ। অন্যদিকে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়দের জন্য ঝরঝরি ও কমলদহ ট্রেইল আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। এসব ট্রেইলের শীতল ঝিরিপথ ও ঝরনার স্বচ্ছ জল ভ্রমণে যোগ করে বাড়তি রোমাঞ্চ।
সমুদ্রের সৌন্দর্যও কম নয়
পাহাড়ের পাশাপাশি সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় এলাকাও পর্যটকদের কাছে সমান জনপ্রিয়। স্থানীয়দের কাছে ‘মুরাদপুর বিচ’ নামে পরিচিত গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতের বিস্তীর্ণ সবুজ ঘাসের মাঠ এবং প্রাকৃতিকভাবে তৈরি আঁকাবাঁকা নালা এখানকার বিশেষ আকর্ষণ।
বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে রয়েছে লোহার ব্রিজ। ব্রিজ ধরে সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এবং বিকেলের সূর্যাস্ত পর্যটকদের মুগ্ধ করে। আর কুমিরা ঘাটের দীর্ঘ জেটি, সন্দ্বীপ চ্যানেল ও নোঙর করা বড় জাহাজের দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।
যাতায়াত সহজ, থাকার সুযোগ সীমিত
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সড়ক ও রেলপথে সহজেই সীতাকুণ্ডে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকেও বাস বা ট্রেনে সরাসরি সীতাকুণ্ডে পৌঁছানো সম্ভব।
সীতাকুণ্ডে সাধারণ মানের কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে। এর মধ্যে হোটেল সাইমুন ও হোটেল সৌদিয়ার মতো আবাসিক হোটেল উল্লেখযোগ্য। তবে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ক্ষেত্রে অনেক পর্যটক চট্টগ্রাম শহরের হোটেলগুলোকে বেছে নেন।
প্রকৃতি রক্ষায় সচেতনতা জরুরি
সীতাকুণ্ডের পাহাড়, ঝরনা ও সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি প্রকৃতি ও নিজের নিরাপত্তার বিষয়েও পর্যটকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। গুলিয়াখালী বা বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার আগে জোয়ার-ভাটার সময় সম্পর্কে জেনে নেওয়া এবং সমুদ্রে নামার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
পাহাড়ি ট্রেইল ও ঝরনা এলাকায় প্লাস্টিক, পলিথিনসহ অপচনশীল বর্জ্য না ফেলারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখতে পর্যটকদের দায়িত্বশীল আচরণই পারে সীতাকুণ্ডের নৈসর্গিক পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করতে।
সময়ের আলো/জোই