ইসির তোড়জোড় ভোটের প্রস্তুতি

শাকিল আহমেদ

জাতীয়

ফল অনেকটা নির্ধারিত। তবুও যেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দেশবাসীর আগ্রহের শেষ নেই। কারণ ৩৫ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত

2026-08-12T01:42:07+00:00
2026-08-12T01:42:07+00:00
 
  বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬,
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন
ইসির তোড়জোড় ভোটের প্রস্তুতি
শাকিল আহমেদ
প্রকাশ: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪২ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ফল অনেকটা নির্ধারিত। তবুও যেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দেশবাসীর আগ্রহের শেষ নেই। কারণ ৩৫ বছর পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে যাচ্ছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। এরই মধ্যে ভোটের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় শেষ হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা। ভোটের প্রস্তুতি জানাতে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে স্পিকারের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছে নির্বাচন কমিশন। এখন অপেক্ষা শুধু ভোটগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতার। 

গত ২৪ জুলাই অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল আগামীকাল। মনোনয়নপত্র বাছাই ১৬ আগস্ট। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। সংসদ অধিবেশনকক্ষে ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত।

গত ৯ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। আর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হিসেবে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ১৯৯১ সালের পর এবার সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হতে যাচ্ছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ৬ আগস্ট রাতে এ ভোটার তালিকার গেজেট প্রকাশ করেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। 

এদের মধ্যে সংসদের সাধারণ আসনের সদস্য ২৯৯ জন। আর সংরক্ষিত আসনের ৫০ জন। চট্টগ্রাম-৪ আসন এ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। কারণ উচ্চ আদালত ওই আসনের জয়ী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন।

যে প্রক্রিয়ায় হবে ভোটগ্রহণ : 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। নির্বাচন কমিশনের সহায়তাকারী (স্পিকারসহ ২০ জন) কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত থাকবেন এবং তাদের জন্য আলাদা আইডি কার্ড থাকবে। তারা ব্যালট পেপার সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেবেন। নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। 

সংসদ সদস্যরা তাদের সামনে রাখা তিনটি ব্যালট বাক্সের যেকোনোটিতে ভোট দেবেন বলে জানান নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। 

তিনি বলেন, ব্যালট পেপারটা আমরা ছাপাব এবং ব্যালট পেপারে দুটো পার্ট একটা মুড়ি আরেকটা হচ্ছে ভোট। মুড়িতে চারটা তথ্য থাকে, ব্যালটের ক্রমিক, যিনি ভোটার তার নাম, বিভক্তি নম্বর আর একটা স্পেস আছে, যেখানে তাকে স্বাক্ষর করে ব্যালটটা নিতে হবে। আর ডান দিকের সাইডটা যেটা ব্যালট, সেই ব্যালটটায়, যারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তাদের নামটা থাকবে এবং তার পাশে স্পেস দেওয়া আছে। সেই স্পেসে (প্রার্থীর নামের পাশে) ওনারা (সংসদ সদস্যরা) পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন। সংসদ সদস্য যাকে ভোট দেবেন, তার নামের পাশে যে স্পেসটা আছে, সেখানে তিনি স্বাক্ষর করবেন এবং ব্যালট পেপারে পূর্ণ নাম লিখে ও স্বাক্ষর দেওয়ার মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীকে সংসদ সদস্যদের ভোট দিতে হবে। আমরা এটা তৈরি করে নিয়ে যাব। ব্যালট বাক্স স্বচ্ছ হবে। কোনো বুথ নয়, তিনটা বক্স থাকবে, যার সুবিধা অনুযায়ী নিকটতম বক্সে ড্রপ করতে পারেন। 

ইসি সচিব বলেন, প্রাথমিক ফলটা ওখানে ঘোষণা করা হবে। গেজেটটা করা হবে অফিসে এসে। কারণ ওখান থেকে গেজেট করার তো সুযোগ নেই। 

সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, শুরুতে লাইভ টেলিকাস্ট করা হবে। ৫টায় যখন ভোটগ্রহণ শেষ হবে, আমরা তাৎক্ষণিক ওখানে গণনা করব। সিইসি, ওখানে ঘোষণা করবেন, এরপর আমরা সচিবালয়ে এসে গেজেটটা করব।

যেমন ছিল ৩৫ বছর আগের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : প্রায় ৩৫ বছর পর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবারও সংসদে ভোট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত হলেও রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট। ফলে এবারের নির্বাচন কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, এর মধ্য দিয়ে আসছে রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশলেরও প্রতিফলন। 

দেশে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবদুর রহমান বিশ্বাস। তার বিপরীতে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছিল সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে ১৪০টি পেয়েছিল। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ১৫১টি আসন। অর্থাৎ বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে ১১টি আসন কম পেয়েছিল। আওয়ামী লীগ ৮৮টি, জাতীয় পার্টি ৩৫টি এবং জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসন পায়। এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিএনপি জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনে সরকার গঠন করে। খালেদা জিয়া হন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। 

একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধানও ফিরিয়ে আনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি তাদের তৎকালীন স্পিকার আবদুর রহমান বিশ্বাসকে প্রার্থী করে। শেষ পর্যন্ত জয়ী হন আবদুর রহমান বিশ্বাস। ১৯৯১ সালের ওই নির্বাচন রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা, দলীয় আনুগত্য, নিরপেক্ষতা এবং সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি করেছিল, তা দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় ছিল। এরপর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। প্রতিবারই একক প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। ফলে সংসদকক্ষে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়েনি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে একক প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। এবার সেই ধারায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। 


১৯৯১ সালের পর প্রথমবার সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হতে যাচ্ছে। যদিও আসনসংখ্যার হিসাবে বিএনপির প্রার্থীর জয় প্রায় নিশ্চিত। কারণ সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে স্বতন্ত্র সদস্য বাদে ১০টি দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এরমধ্যে বিএনপির ২৪৭টি আসন, জামায়াতে ইসলামীর ৭৭টি এবং এনসিপির ৮টি আসন রয়েছে। খেলাফত মজলিসের রয়েছে ৩টি আসন। এ ছাড়া কয়েকটি দলের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন। স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন ৮ জন। 

ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কে কত ভোট পাবেন এবং কে জিতবেন, তা নির্ধারণে সংসদের দলীয় আসনসংখ্যাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের বৈঠক ডেকেছে ইসি : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের বৈঠক ডেকেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওই দিন  দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার ‘নির্বাচনি কর্তা’ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের পক্ষে নোটিসের প্রজ্ঞাপনটি জারি করেছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

নোটিসে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৫(৩)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ৬ আগস্ট প্রজ্ঞাপনের (নির্বাচনের তফসিল) ধারাবাহিকতায়, স্পিকারের সঙ্গে আলোচনাক্রমে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ভোটগ্রহণের দিনে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার  দুপুর ২টায় ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করছি।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 


  বিষয়:   ইসি  তোড়জোড়  ভোট  রাষ্ট্রপতি নির্বাচন 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: