বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া ও সাগর উত্তাল হয়ে নোয়াখালীর হাতিয়ায় তিনটি মাছধরা ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে দুর্ঘটনায় থাকা ৫০ মাঝি-মাল্লাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুটি ট্রলার সম্পূর্ণভাবে সাগরে তলিয়ে গেছে। অন্য একটি ট্রলার এখনো ভাসমান রয়েছে। সেটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে উপজেলার নিঝুমদ্বীপের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ডুবে যাওয়া ট্রলার তিনটি হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়নের আমতলী ঘাটের নাসির মাঝি, জহির মাঝি ও জাহেদ মাঝির বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার সময় ট্রলারগুলো সাগরে মাছ ধরছিল।
জহির মাঝির ট্রলারের মালিক নিশান চৌধুরী জানান, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের প্রভাবে গত কয়েকদিন ধরে সাগর উত্তাল রয়েছে। বুধবার সকালে ঢেউ ও বাতাসের তীব্রতা বেড়ে গেলে সাগরে মাছ ধরতে থাকা অনেক ট্রলার বিপাকে পড়ে। এর মধ্যে নিঝুমদ্বীপের কাছাকাছি এলাকায় তিনটি ট্রলার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ডুবে যায়। ট্রলারগুলোতে থাকা মাঝি-মাল্লারা বিপদে পড়লে আশপাশে থাকা অন্য মাছধরা ট্রলারগুলো এগিয়ে আসে। পরে তাদের সহযোগিতায় তিনটি ট্রলারের ৫০ জন মাঝি-মাল্লাকে নিরাপদে উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসা হয়। এতে কোনো জেলে হতাহত হয়নি।
নিশান চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর জহির মাঝি ও জাহেদ মাঝির ট্রলার দুটি পুরোপুরি সাগরে তলিয়ে গেছে। তবে নাসির মাঝির ট্রলারটি এখনো পানিতে ভাসছে। সেটি উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত ট্রলারগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। হঠাৎ করে ঢেউয়ের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ছোট ও মাঝারি আকারের মাছধরা ট্রলারগুলোতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সাগরে বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে আরও দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ট্রলারডুবির ঘটনাটি শুনেছি। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, ট্রলারগুলোতে থাকা সবাইকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মাছধরা ট্রলারগুলোকে নিরাপদে অবস্থান করার জন্য জেলেদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই