সূর্যগ্রহণ একটি স্বাভাবিক মহাজাগতিক ঘটনা হলেও ইসলামে এটিকে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন। সূর্যগ্রহণের সময় মুসলমানদের নামাজ, দোয়া, ইসতেগফার ও আল্লাহর জিকির করার নির্দেশ দিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান করলে পৃথিবীর কোনো কোনো স্থান থেকে সূর্য আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে আড়াল হয়ে যায়। এই ঘটনাকে সূর্যগ্রহণ বা আরবিতে কুসুফ বলা হয়। অন্যদিকে পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে এলে চন্দ্রগ্রহণ ঘটে, যাকে আরবিতে খুসুফ বলা হয়।
পবিত্র কোরআনে সূর্য ও চাঁদের গুরুত্বের কথা বিভিন্ন আয়াতে এসেছে। আল্লাহ বলেন, ‘তিনিই সত্তা, যিনি সূর্যকে কিরণোজ্জ্বল ও চাঁদকে স্নিগ্ধ আলোয় আলোকিত করেছেন।’ (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৫)
আল্লাহ আরও বলেন, ‘তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন সূর্য ও চাঁদকে, যারা অবিরাম একই নিয়মের অনুবর্তী এবং তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত ও দিনকে।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত: ৩৩)
ইসলামের দৃষ্টিতে সূর্যগ্রহণ কোনো ব্যক্তির জন্ম, মৃত্যু বা বিশেষ কোনো পার্থিব ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। মহানবী (সা.)-এর সময়ে তাঁর ছেলে ইবরাহিম (রা.) মারা যাওয়ার দিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। তখন অনেকে ধারণা করেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। কিন্তু মহানবী (সা.) এ ধারণা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
মুগিরা ইবনে শুবা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সময় যে দিন (তাঁর ছেলে) ইবরাহিম (রা.) মারা গেলেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা তখন বলতে লাগল, ইবরাহিম (রা.)-এর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তখন মহানবী (সা.) বললেন, কারও মৃত্যু অথবা জন্মের কারণে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন তা দেখবে, তখন নামাজ আদায় করবে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০৪৩)
আরেক হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কোনো লোকের মৃত্যুর কারণে কখনও সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শনগুলোর দুটি। তোমরা সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখলে নামাজে দাঁড়িয়ে যাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৮৪)
তাই সূর্যগ্রহণের সময় মুসলমানদের আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করা, নামাজ আদায় করা, দোয়া করা এবং বেশি বেশি ইসতেগফার করা উচিত। নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি আল্লাহর রহমত কামনা করা যেতে পারে।
এ সময় পড়া যায় এই দোয়াটি:
اللَّهمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كثِيرًا، وَلا يَغْفِر الذُّنوبَ إِلاَّ أَنْتَ، فَاغْفِر لي مغْفِرَةً مِن عِنْدِكَ وَارحَمْني، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفور الرَّحِيم
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু নাফসি, জুলমান কাসিরাও, ওয়া লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা, ইল্লা আংতা, ফাগফিরলি, মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা, ওয়ার হামনি ইন্নাকা আংতাল গাফুরুর রহিম।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি নিজের ওপর অনেক অপরাধ করেছি। আপনি ছাড়া সে অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নেই। আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমার ওপর রহমত বর্ষণ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।
সূর্যগ্রহণের সময় এই দোয়ার পাশাপাশি অন্যান্য ইসতেগফার, জিকির ও দোয়া করা যায়। ইসলামের শিক্ষা হলো, এমন মহাজাগতিক ঘটনাকে কুসংস্কার বা লোকবিশ্বাসের সঙ্গে না মিলিয়ে আল্লাহর কুদরত ও নিদর্শন হিসেবে স্মরণ করা এবং তাঁর কাছে ফিরে আসা।
সময়ের আলো/এমকে