থাইল্যান্ডের ক্রমবর্ধমান নির্মাণ, কৃষি ও হালাল ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন খাতের কর্মী সংকট নিরসনে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে থাই সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশকে পঞ্চম দেশ হিসেবে তাদের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে চাইছে দেশটি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হতে পারে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, অধিকার রক্ষা ও নিরাপদ অভিবাসন নীতি নিয়ে বিষদ আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী দুদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে থাইল্যান্ডের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি একটি নৈতিক, নিরাপদ ও দায়িত্বশীল শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে বলেন, কর্মী নিয়োগের প্রাথমিক খরচ অবশ্যই নিয়োগকর্তাকে বহন করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় ভাষায় প্রমিত কর্মসংস্থান চুক্তি, ন্যায্য মজুরি, আবাসন, চিকিৎসা বিমা ও সার্বিক কল্যাণমূলক সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, থাইল্যান্ডের দক্ষ জনশক্তির চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশে বিপুল কর্মক্ষম জনশক্তি রয়েছে। সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও কম খরচে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার জন্য তিনি থাই প্রতিনিধিদলকে আহ্বান জানান।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ জানান, ‘ব্লু কলার’ জবের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের ‘হোয়াইট কলার’ পেশার জন্যও বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। তবে কর্মীদের অধিকার রক্ষা ও স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে দুই দেশকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।
থাইল্যান্ডের শ্রমবিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন জানান, বর্তমানে চারটি দেশের সঙ্গে কর্মী নিয়োগে থাইল্যান্ডের চুক্তি রয়েছে। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার কারণে সেখান থেকে নির্মাণ, হালাল ফ্যাক্টরি ও কৃষি খাতে কর্মী নেয়া বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্ভূত শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় তারা পঞ্চম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে অত্যন্ত আগ্রহী।
তবে বৈঠকে থাই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কিছু উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা, থাইল্যান্ডকে অন্য দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার এবং মানবপাচারের মতো বিষয়গুলো যৌথভাবে সমাধানের তাগিদ দেন তারা।
থাই পক্ষের এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, উল্লেখিত উদ্বেগগুলো দ্রুত সমাধান করে অচিরেই দুদেশের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে।
বৈঠকে থাই প্রতিনিধিদলের ভাইস চেয়ারম্যান চিনাচট সেনস্যাঙ্ক, ড. পিরাসিথ কুনলার্তারিপন এবং বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক ও যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/টিকে