২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের চাহিদা দৈনিক ১৬ লাখ ব্যারেল কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। তবে ২০২৭ সালে চাহিদা দৈনিক ২৪ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে।
বুধবার প্রকাশিত আইইএর আগস্ট মাসের তেলবাজার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে চলতি বছর বিশ্বে তেলের ব্যবহার কমার গতি আরও বাড়বে। গত মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় এবার চাহিদা কমার হিসাব দৈনিক ৫ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল বাড়ানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বে তেলের চাহিদা দৈনিক ৪৯ লাখ ব্যারেল কমতে পারে। তৃতীয় প্রান্তিকে এই পতন কমে দৈনিক ২৮ লাখ ব্যারেলে দাঁড়াবে। এরপর বছরের শেষ প্রান্তিকে আবার চাহিদা বাড়তে শুরু করবে। ওই সময়ে দৈনিক ৫ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
২০২৭ সালে বিশ্বে তেলের চাহিদা দৈনিক ২৪ লাখ ব্যারেল বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আইইএ।
এদিকে তৃতীয় প্রান্তিকে বিশ্ববাজারে দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল তেলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। গত মাসের প্রতিবেদনে যেখানে ঘাটতির পূর্বাভাস ছিল দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল, নতুন হিসাবে তা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
জুনে সাময়িক স্বস্তির পর জুলাইয়ে বিশ্বে পর্যবেক্ষণ করা তেলের মজুত ৬ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল কমেছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ২২ লাখ ব্যারেল করে মজুত কমেছে। পানিতে থাকা তেলের পরিমাণ কমে যাওয়াই মজুত কমার প্রধান কারণ বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জুলাইয়ের শেষ নাগাদ বিশ্বে তেলের মজুত ৭৯০ কোটি ব্যারেলের নিচে নেমে যায়। ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এটাই সর্বনিম্ন মজুত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত মোট মজুত কমেছে ৪১ কোটি ব্যারেল। দৈনিক হিসাবে এই পতন গড়ে ২৭ লাখ ব্যারেল।
বছরের শেষ দিকে বিশ্ব তেলের বাজারে আবারও উদ্বৃত্ত তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইইএ। তবে ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। সংস্থাটি বলেছে, আগের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।
২০২৬ সালে তেল সরবরাহ কমবে
আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের সরবরাহ দৈনিক ৪৩ লাখ ব্যারেল কমে ১০ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলে নেমে আসতে পারে।
আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলো থেকে দৈনিক ১৪ লাখ ব্যারেল সরবরাহ বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় সামগ্রিক ঘাটতি পূরণ হবে না।
তবে ২০২৭ সালে বিশ্বে তেলের সরবরাহ আবার দ্রুত বাড়বে। ওই বছর সরবরাহ দৈনিক ৮৩ লাখ ব্যারেল বেড়ে ১১ কোটি ৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইইএ।
সময়ের আলো/কেএইচ