ইরান কখনোই মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়নি বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলই এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য প্রধানত দায়ী।
বুধবার (১২ আগস্ট) জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন। যুদ্ধ বন্ধে জাপানের ইতিবাচক অবস্থানের জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান পেজেশকিয়ান।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কোনোভাবেই এই অঞ্চলে অশান্তি চায়নি। তার দাবি, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা, ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনিকে হত্যা, মিনাব শহরে শিক্ষার্থীসহ বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়া এবং বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক শান্তি নষ্ট করেছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান কখনো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও ভালো করার চেষ্টা করেছে।
পেজেশকিয়ান আশা প্রকাশ করেন, এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে জাপানের কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল হবে এবং আগ্রাসন ও যুদ্ধ উসকে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিও যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি টোকিওর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে ইরান ও পুরো অঞ্চলের জন্য কূটনৈতিক পথই সবচেয়ে ভালো।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনায় অগ্রগতিকে স্বাগত জানান তাকাইচি। আলোচনা সফল হলে দ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে চলাচল আবার স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
একই সঙ্গে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বাড়তে না দিতে ইরানের প্রভাব কাজে লাগানোর জন্য পেজেশকিয়ানের প্রতি আহ্বান জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী।
ফোনালাপে দুই নেতা ভবিষ্যতেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং ইরান-জাপানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ