ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় দেশটির নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও এর মিত্ররা। বুধবার (১২ আগস্ট) ৩২টি দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। এসব দেশের মধ্যে ২৯টি ইউরোপীয় দেশ ছাড়াও কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড রয়েছে।
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের জনগণকে কোনো ধরনের ভয় ছাড়াই মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার চর্চার সুযোগ দিতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরিবর্তনের দাবিতে ইরানের জনগণের কণ্ঠস্বর শোনার জন্য দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে মানবাধিকারের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে অর্থবহ পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ও মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার ঘটনা ব্যাপক হারে অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক গত সপ্তাহে জানান, ১৯ মার্চ থেকে ইরানে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত অভিযোগে অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চলতি বছরের শুরুতে হওয়া ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন অন্তত ২৭ জন।
ইরানের মানবাধিকার সংগঠন আবদোররহমান বোরুমান্দ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ইরানে ৯১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। শুধু আগস্টেই এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে এপ্রিল মাসে ইইউর কূটনৈতিক ও বৈদেশিক নীতিবিষয়ক সংস্থা ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস) ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হারকে ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যায়িত করে। একই সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার জন্য ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
সময়ের আলো/কেএইচ