যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগের সংক্রমণ বেড়েই চলছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশটির ৪৭টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন হাম আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সোমবার (৫ অক্টোবর) নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর ক্যাথি হোকুল। সেখানে এ বছর ১০৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে, যা ২০১৯ সালের প্রাদুর্ভাবের পর সর্বোচ্চ।
পেনসিলভানিয়ায় তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে অঙ্গরাজ্যটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে।
হামসম্পর্কিত ৫ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে পেনসিলভানিয়া কর্তৃপক্ষ। তবে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এ সংখ্যার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের হিসাবে এখন পর্যন্ত হামজনিত দুটি মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র গত আগস্টে পেনসিলভানিয়ায় হামজনিত মৃত্যুর ঘটনাগুলো ‘মনগড়া’ বলে দাবি করেছিলেন। এ ছাড়া, মৃত্যুর সংখ্যা গণনার পদ্ধতি পরিবর্তনের জন্য রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রকে নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি।
গত এক বছরে মূলত টিকা না নেওয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে হাম সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা নিতে অনীহা এবং ভুল তথ্যের কারণে শিশুদের টিকাদানের হার কমে গেছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে হাম আক্রান্তদের অধিকাংশই শিশু ও কিশোর-কিশোরী।
দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ছয় মাস ধরে চলা এক প্রাদুর্ভাবে প্রায় এক হাজার মানুষ আক্রান্ত হন। ইউটাহ অঙ্গরাজ্যেও চলছে হাম প্রাদুর্ভাব। সেখানে ২০২৫ সালের জুন থেকে এখন পর্যন্ত ৭২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
১৯৯০-এর দশকের পর চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে হাম সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে সক্রিয় বছর। গবেষকেরা মে মাসে প্রকাশিত এক চিঠিতে বলেছেন, টিকাদানের প্রচেষ্টা জোরদার করা, টিকা নেওয়া থেকে অব্যাহতির হার কমানো এবং চলমান স্থানীয় সংক্রমণ বন্ধ করাই পরিস্থিতির গতিপথ পরিবর্তনের জন্য জরুরি।
সূত্র : রয়টার্স
সময়ের আলো/মহু