রাজধানীর রায়েরবাগের জোড়াখাম্বা এলাকায় মাদরাসা থেকে শিশু শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় শিক্ষক হাফেজ মো. জাকারিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এছাড়া অপর শিক্ষক হাফেজ মো. জোবায়ের আহম্মেদকে শিশু দাবি করায় রিমান্ড শুনানি হয়নি। এ বিষয়ে শুনানির জন্য ১৮ অগাস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আব্দুস ছবুর এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ৫ অাগস্ট তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কদমতলী থানার এসআই আমজাদ হোসেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য এদিন ধার্য রাখেন।
এদিন শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। বাদীপক্ষে আইনজীবী হারুনর রশীদ খান আসামিদের রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। জাকারিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী ইমদাদুল আলম রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করেন। জোবায়েরকে শিশু দাবি করেন তার আইনজীবী। এ জন্য তার বিষয়ে শুনানি হয়নি। পরে আদালত এ আদেশ দেন।
গত ৩ আগস্ট দুপুরে রওয়াজাতুল উলুম হাফিজিয়া নুরানি মাদরাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে মো. নাঈম শেখ নামে ১৩ বছরের এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির মা নাজমা বেগম শিক্ষক জাকারিয়া ও জোবায়েরকে আসামি করে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর রাত ১০টার দিকে তাদের মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, দুই শিক্ষক বিভিন্ন কারণে নাঈমকে নির্যাতন করতেন। নাঈম বিষয়টি তার মাকে বলেছিল। পরে ছেলেকে মাদরাসা থেকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন নাজমা বেগম। কিন্তু আসামিরা মাদরাসা থেকে ছাড়পত্র দেননি। নাঈম ওই মাদরাসায় পড়তে না চাওয়ায় আসামিরা তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে যান। সোমবার দুপুরে নাঈম মাদরাসায় পড়বে না বলে শিক্ষকদের জানায়। তখন তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে আসামিরা শ্বাসরোধে হত্যা করে।
সময়ের আলো/আআ