সময়ের আলোতে সংবাদ প্রকাশের পর বরিশালের বানারীপাড়ায় দারিদ্র্যকে জয় করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী তাওহীদ ইসলামের পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন সুপ্রিম কোর্টের তরুণ আইনজীবী মো. রাজু হাওলাদার পলাশ।
সরকারি বানারীপাড়া মডেল ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট) থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জনের পরও ভালো কলেজে ভর্তি ও উচ্চশিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন তাওহীদ ও তার হতদরিদ্র পরিবার। সম্প্রতি ‘সময়ের আলো’র অনলাইন সংস্করণে ‘জিপিএ-৫ পেয়েও ভালো কলেজে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় তাওহীদ’ শিরোনামে একটি মানবিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি দৃষ্টিগোচর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মানবতার হাত বাড়িয়ে দেন অ্যাডভোকেট রাজু হাওলাদার পলাশ। তিনি ভালো কলেজে ভর্তিসহ তাওহীদের পড়াশোনার সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এমন মহানুভবতায় নিজের দুশ্চিন্তা কেটে যাওয়ায় আইনজীবী রাজু আহমেদের প্রতি অনিঃশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাওহীদ।
এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়ার কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট রাজু হাওলাদার পলাশ বলেন, অর্থাভাবে আমার জন্মভিটার কোনো মেধাবী সন্তান উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে—এটি আমার পক্ষে মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টের। দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই তো জাতীয় সম্পদ এবং আগামী দিনের অগ্রযাত্রার প্রতীক। সবার সহযোগিতায় তাওহীদ ভালো কিছু করতে পারলে আমাদের সমাজ আরও বিকশিত হবে এবং অন্যরাও অনুপ্রাণিত হবে।
জানা যায়, বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নের জবেদপুর গ্রামের বাসিন্দা তাওহীদের বাবা মো. ফারুক হোসেন একজন দিনমজুর এবং মা রিমা খানম গৃহিণী। জীর্ণশীর্ণ ঘরে বসবাস করা এই পরিবারটিতে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। ঠিকমতো তিনবেলা খাবার জোটা, ভালো পোশাক পরা কিংবা প্রাইভেট পড়ার সুযোগ ছিল না তাওহীদের। তবুও অভাবের কাছে হার না মেনে বুকভরা স্বপ্ন আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি।
তাওহীদের আজকের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক শিক্ষকের মানবিক উদ্যোগের গল্প। সরকারি বানারীপাড়া মডেল ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট) স্কুলের সহকারী শিক্ষক নিয়াজ মাহমুদ পলাশ নবম শ্রেণিতে তাকে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি করাসহ পড়াশোনায় সার্বিক সহায়তা করেছিলেন। অদম্য ইচ্ছা ও নিরলস অধ্যবসায় দারিদ্র্যকে হারিয়ে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে তাওহীদ।
ফলাফল প্রকাশের পর আনন্দের মুহূর্ত এলেও ভালো কলেজে ভর্তি ও চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ঘিরে ধরেছিল পরিবারটিকে। তবে সময়ের আলোতে সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে অভাবের সংসারে বেড়ে ওঠা এই তরুণের পাশে এসে দাঁড়ান অ্যাডভোকেট রাজু হাওলাদার পলাশ। তার এই সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ সমাজে প্রশংসার কুড়িয়েছে এবং অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে।
সময়ের আলো/জোই